বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন ঋষি কাপুর। রোমান্টিক নায়কের ইমেজ দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের মন আর চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও রেখে গেছেন এক অনন্য ছাপ। তবে এই কিংবদন্তি নায়কের সাথে তার বাবা রাজ কাপুরের সম্পর্ক ছিল বরাবরই জটিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা জানান, ‘একবার ঋষি কাপুর তার বাবা কিংবদন্তি পরিচালক রাজ কাপুরের একটি ছবি ছেড়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র রাতের শ্যুটিং করতে হবে বলে।’
মেহরা জানান, ‘দিল্লি ৬’ ছবির কাহিনী ঋষি কাপুরকে শোনালে তার গল্পটি খুব পছন্দ হয়। কিন্তু এ ছবির বেশিরভাগ শ্যুটিংই ছিল রাতে। আর ঋষি রাতের শ্যুটিং একদম পছন্দ করতেন না।’কিংবদন্তি ঋষি কাপুর
এই প্রসঙ্গে ঋষি তাকে বলেছিলেন, ‘আমার বাবা রাজ কাপুর একটি ছবির গল্প শোনান। তারপর বলেন, ২-৩ দিন রাতে শ্যুটিং করতে হবে। আমি শুধু ওই তিন রাতের শ্যুটিংয়ের জন্যই ছবিটা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আর এখন আপনি বলছেন, পুরো ছবিটাই রাতের?’
তবুও মেহরা নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি ঋষিকে বলেন, ‘এই গল্পটা রাতেই শুট করা দরকার, আপনার সাহায্য ছাড়া আমার উপায় নেই।’ শেষ পর্যন্ত ঋষি রাজি হন। ‘দিল্লি ৬’ ছিল তার প্রথম ছবি যেখানে তিনি নিয়মিত রাতের শ্যুটিং করেন।
মেহরা আরও জানান, ‘দিল্লি ৬’ ছবির কাহিনী শুনে ঋষি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। গল্পটি তার বাবার করা ‘জাগতে রাহো’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়। ঋষি বলেছিলেন, ‘ছবিটিতে গভীর সামাজিক বার্তা আছে এবং তিনি এই ছবিতে কাজ করতে চান।’
ঋষি কাপুর বহুবারই প্রকাশ্যে বলেছেন যে বাবার সঙ্গে তার সম্পর্কটা খুব একটা সহজ ছিল না। যদিও তারা একসঙ্গে ‘মেরা নাম জোকার’, ‘ববি’, ‘প্রেম রোগ’ এর মতো সফল ছবিতে কাজ করেছেন তবু বাবা-ছেলের মধ্যে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব ছিল। ঋষি তার বাবাকে ‘বাবা’ না বলে ‘সাহেব’ বলে ডাকতেন যা ভালোবাসার চেয়ে ভয়কেই বেশি প্রকাশ করত।
উল্লেখ্য, ঋষি কাপুর তার আত্মজীবনী ‘খুল্লাম খুল্লা:ঋষি কাপুর আনসেন্সর্ড’ এ লেখেন, ‘ছোটবেলায় তার বাবা প্রায়ই গভীর রাতে মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন যা তাকে আতঙ্কিত করত। সেই রাতগুলোর ভয় আমাকে অনেক দিন তাড়া করেছে।’
আরআই/টিকে