বিদায়ি ২০২৫ সালে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গেল বছর শুধু সড়ক দুর্ঘটনার ৬ হাজার ৭২৯টি ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। বছরে এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রতিবছরের মতো এবারও এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনটি।
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৫৮ জন, আহত ১৩৯ জন এবং নিখোঁজ রয়েছে ৩৮ জন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বছরে ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭ শতাংশের বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৯৪ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৪.৮৭ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থী।
সংগঠনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া ও ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষও উল্লেখযোগ্য হারে ঘটেছে। দুর্ঘটনার বড় অংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়ক ব্যবস্থাপনার নীতিতে কার্যকর পরিবর্তন না আসায় দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি বাড়ছেই। যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, অথচ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে সংগঠনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা, পরিবহন খাত সংস্কার ও উন্নত গণপরিবহনের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
এবি/টিকে