দেখতে দেখতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমানহীন একটি বছর কেটে গেলো ঢালিউডের। গত বছরের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই চিত্রনায়িকা। কিন্তু অনেক সিনেপ্রেমী দর্শকই জানেন না অঞ্জনাই দেশের একমাত্র অভিনেত্রী যিনি দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
সত্তর দশকের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর সমসাময়িক অভিনয়শিল্পীরা মূলত দেশের বাইরে কাজ করতেন ভারত কিংবা পাকিস্তানে। কিন্তু একমাত্র অঞ্জনাই একমাত্র দেশের ঢালিউড অভিনয়শিল্পী যিনি ভারত, পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাংকক, তুরস্ক, ইরাক, ইরান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও হংকংয়ের সিনেমাতেও কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় ২ ডজন সিনেমায় কাজ করেছেন অঞ্জনা। ১৯৭৬ সালে ঢালিউডে পা রাখলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অঞ্জনা পা রাখেন ১৯৮৬ সালে যৌথ প্রযোজিত ‘আপোশ (বাংলাদেশি নাম)’, ‘জানে আন জানে (পাকিস্তানি নাম)’ সিনেমার মাধ্যমে।
এশিয়ার সেরা নৃত্যশিল্পীর পুরস্কার জয়ী এ অভিনেত্রী তার রূপ, অভিনয় গুণ, ফ্যাশন সেন্স আর সৌন্দর্য দিয়ে দাপিয়েছেন শুধু বাংলা নয়, হিন্দি, উর্দু, সিন্ধি, পাঞ্জাবী, নেপালী, থাইল্যঠহু, তুরস্কসহ বেশকিছু সিনে ইন্ডাস্ট্রি।
ক্যারিয়ারে যে বিদেশি অভিনেতার সঙ্গে অঞ্জনা কাজ করেছেন তারা হলেন জাভেদ শেখ, নাদিম, ফয়সাল, ইশমাইল শাহ, শেখ আসিফ, ভুবন কেসি, আসিফ আফজাল, মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ।
অঞ্জনা অভিনীত আন্তর্জাতিক সুপারহিট সিনেমাগুলো হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান-থাইল্যান্ডের যৌথ প্রযোজনা ‘আগ ওর শোলে’, ইরাক-পাকিস্তানের ‘ইনসানিয়াত কা কাতিল’, পাঞ্জাবি ছবি ‘বাঘী শেরনী’, ‘বরদাস্ত’, উর্দু ছবি ‘কাতিল’, ‘কাতিলো কা কাতিল’, ‘খাতার নাক হাসিনা’।
আরও রয়েছে ‘জানে আনজানে’, আন্ধি কানুন, হংকংয়ের ‘ইলিফেন্ট লাভ’, তুরস্ক-পাকিস্তানের ‘বদলা’, তুরস্ক-পাকিস্তানের ‘জিনদাগিকা ইনতেকাম’, ভারতের ‘অর্জুন’, পশতু ছবি ‘আখেরি হামলা’, ‘টার্গেট’ এবং পাকিস্তান-নেপালের ‘মোহাব্বত’, পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়িকা নূরজাহানের গাওয়া জনপ্রিয় গানের সিনেমা ‘সিকেণ্ডারা’, ‘আখরি ফয়সালা’, ‘কাতিল’ ইত্যাদি।
এসকে/এসএন