১৯৮৫ সালে আট ঘণ্টার শিফট দাবি ঘিরে বছরভর সিনেদুনিয়ায় বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। তবে ছাব্বিশ যে দীপিকা পাড়ুকোনের জন্য একেবারেই ‘তুরুপের তাস’, তা তার ঝুলিতে থাকা একের পর এক মেগাবাজেট সিনেমাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।
শুধু বলিউড নয়, দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও বর্তমানে ‘দাপুটে ও দামি’ অভিনেত্রীর তালিকায় নিজের জায়গা পোক্ত করে নিয়েছেন দীপিকা। তাই এবারের জন্মদিনটাও যে বিশেষ হবে, তা বলাই বাহুল্য।
৫ জানুয়ারি, সোমবার জীবনের চল্লিশে পা রাখলেন বলিউডের ‘মাস্তানি’। আর এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ভক্তদের জন্য রীতিমতো রাজকীয় আয়োজন করলেন অভিনেত্রী।
শোনা যাচ্ছে, নিজের খরচে বিমানের টিকিট কেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৫০ জন অনুরাগীকে মুম্বাইতে উড়িয়ে আনেন দীপিকা। শুধু তা-ই নয়, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ভেন্যু পর্যন্ত তাঁদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
ভক্তদের অভ্যর্থনাতেও ছিল ব্যক্তিগত ছোঁয়া। প্রত্যেক অনুরাগীকে দীপিকা স্বাগত জানান নিজের হাতে লেখা চিঠি দিয়ে। এখানেই শেষ নয়—নিজের জন্মদিনে উল্টে ভক্তদের হাতেই তুলে দেন দামি ‘রিটার্ন গিফট’। সঙ্গে ছিল জমকালো জন্মদিনের ভোজ।
ইন্দো-ওয়েস্টার্ন থিমে সাজানো মেন্যুতে জায়গা পেয়েছিল রকমারি ককটেল থেকে শুরু করে দক্ষিণী, মোগলাই ও উত্তর ভারতীয় নানা সুস্বাদু পদ। অনুরাগীদের ঘিরে রেখেই কাটা হয় বিশাল ত্রিস্তরীয় চকোলেট কেক। বিশেষ আকর্ষণ ছিল কেকের সঙ্গে দীপিকার পোশাকের রঙের মিল—বার্গেন্ডি রঙের কেকের সঙ্গে মানানসই পোশাকে ধরা দেন নায়িকা।
দেদার আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর খাওয়াদাওয়ায় জমে ওঠে দীপিকার ৪০তম জন্মদিনের উদ্যাপন। তবে চমক এখানেই শেষ নয়।
জানা গেছে, নির্ধারিত দিনের প্রায় আড়াই সপ্তাহ আগেই, ১৮ ডিসেম্বর অনুরাগীদের সঙ্গে জন্মদিনের প্রাক্-উদ্যাপন সেরে ফেলেছিলেন দীপিকা।
কারণ বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বরই বিদেশে পাড়ি দেন অভিনেত্রী। তাই ব্যস্ততার মাঝেই ভক্তদের জন্য আলাদা করে সময় বের করে আগেভাগেই এই বিশেষ দিনটি উদ্যাপন করেন তিনি। সেই রঙিন জন্মদিনের মুহূর্তগুলোই রবিবার রাতে দীপিকার ফ্যান পেজে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
ভক্তদের প্রতি এমন ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় আবারও প্রমাণ করলেন—দীপিকা পাড়ুকোন শুধু বড় তারকাই নন, হৃদয়েও সমান বড়।
এসএন