ভেনেজুয়েলার একচ্ছত্র শাসক নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের হাতে বন্দী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা মাদুরোর গ্রেপ্তারের ছবি যখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, তখন সামনে আসছে এই নেতার জীবনের ভিন্ন এক রূপ। তিনি ছিলেন ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার একজন কট্টর ভক্ত, যিনি লিওনেল মেসির বিদায়ে অঝোরে কেঁদেছিলেন।
মাদুরোর ফুটবল প্রেমের সবচেয়ে পরাবাস্তব দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালের মার্চ মাসে। করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়ে যখন বিশ্ব নেতারা স্যুট-টাই পরে গম্ভীর মুখে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মাদুরো ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হন বার্সেলোনার উজ্জ্বল নীল রঙের একটি ট্র্যাকস্যুট পরে। সেখানে তিনি মজা করে বলেছিলেন, ক্লাবে তাকে নতুন ‘রিইনফোর্সমেন্ট’ হিসেবে সাইন করানো হয়েছে এবং উচ্চস্বরে ‘ভিসকা এল বার্সা’ (বার্সা দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিয়েছিলেন।
২০২১ সালে যখন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে লিওনেল মেসিকে বার্সেলোনা ছাড়তে হয়, তখন মাদুরো সেটি ব্যক্তিগত শোক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ‘মেসির সঙ্গে যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত কুৎসিত।
আমি তার সঙ্গে কেঁদেছিলাম। যখন তাকে কাঁদতে দেখলাম, আমিও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। সে একজন নিখুঁত মানুষ এবং বিশ্বের ক্রীড়া জগতের গৌরব।’
শুধু চোখের জল ফেলেই ক্ষান্ত হননি মাদুরো।
তিনি সরাসরি বার্সা প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তার সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘পরিচালকরা মেসিকে ব্যবহার করে বিলিয়নিয়ার হয়েছে, আর কাজের শেষে তাকে লাথি মেরে বের করে দিল।’ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে যখন মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছিল, তখন হুট করেই আলোচনা থামিয়ে দেন মাদুরো। খবর আসে মেসি লিগে ৩০০তম গোল করেছেন। মাদুরো চিৎকার করে ওঠেন, ‘মেসি দীর্ঘজীবী হোক, কাতালুনিয়া দীর্ঘজীবী হোক!’ এরপর তিনি সভায় উপস্থিত জেনারেল ও মন্ত্রীদের হাত তুলে দেখাতে বলেন, কে রিয়াল মাদ্রিদ আর কে বার্সেলোনা সমর্থক।
২০১৪ বিশ্বকাপে যখন জর্জিও চিলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় লুইস সুয়ারেজ বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হচ্ছিলেন, তখন মাদুরো ছিলেন তার পক্ষে সোচ্চার। তিনি মনে করতেন, সুয়ারেজকে নিপীড়ন করা হচ্ছে কারণ তিনি ছোট দেশ উরুগুয়ের হয়ে বড় দেশগুলোকে (ইংল্যান্ড ও ইতালি) বিদায় করে দিয়েছেন।
নিকোলাস মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস ও স্বৈরাচারি আচরণের অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও, কাতালান ক্লাবের জয়গান গাওয়া এই নেতার ফুটবলীয় আবেগ ইতিহাসে এক অদ্ভুত অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও ইয়াহু স্পোর্টস
আইকে/টিএ