শেষবারের মতো রুপালি পর্দায় ফিরে আসা, আর সেই ফিরে আসার পথটিও ঠিক ধর্মেন্দ্রর মতোই দৃপ্ত, জেদি আর আত্মসম্মানে ভরপুর। সদ্য মুক্তি পাওয়া তাঁর শেষ অভিনীত ছবি ‘ইক্কিস’-এর শুটিংয়ের একটি মুহূর্ত এখন নতুন করে আলোচনায়। ভোররাতে শুটিং ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি অভিনেতার মুখ থেকে উঠে আসা একটি প্রশ্ন যেন আবারও প্রমাণ করে দিল, বয়স কখনও তাঁর কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
ছবির কোরিওগ্রাফার বিজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে সেই রাতের কথা। কলেজ রিইউনিয়নের একটি দৃশ্যের জন্য কাওয়ালি গানের শুটিং চলছিল গভীর রাতে। ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় ভোর তিনটার কাছাকাছি। শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ইউনিটের সিদ্ধান্ত ছিল, ধর্মেন্দ্রকে খুব সহজ কিছু মুভমেন্টেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে। উদ্দেশ্য একটাই, যেন তাঁকে অতিরিক্ত কষ্ট না করতে হয়।
কিন্তু সেটে দাঁড়িয়ে ধর্মেন্দ্র যখন দেখলেন অন্য শিল্পীরা একে অপরের কাঁধে হাত রেখে নাচের স্টেপ করছে, তখনই প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমি কেন নাচতে পারব না?” সেই প্রশ্নে যেন থমকে যায় পুরো ইউনিট। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, এই নাচ চরিত্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিনি চাইলে শুধু সংগীত উপভোগ করলেই যথেষ্ট। কিন্তু ধর্মেন্দ্র রাজি হননি।
বয়স আর শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি জেদ ধরেন স্টেপ শেখার। দু’জন নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে নিজেই অনুশীলনে নেমে পড়েন। বসা, ওঠা, পায়ের নড়াচড়া-সবকিছুই তাঁর জন্য তখন কষ্টসাধ্য। তবু থামেননি। অবশেষে উঠে দাঁড়িয়ে পুরো স্টেপটি করে দেখান। সেই মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় শুটিং ফ্লোর। যেন সবাই নিজের চোখের সামনে কিংবদন্তির শেষ লড়াইটা দেখে ফেলেছেন।
শুধু নাচেই থেমে থাকেননি তিনি। গানের কথা জানার আগ্রহ দেখান, প্রয়োজনে ঠোঁট মেলানোর জন্য কথা মুখস্থ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। যদিও তাঁকে জানানো হয়, সেটির প্রয়োজন নেই। তবু শতভাগ দেওয়ার মানসিকতা থেকে একচুলও সরে আসেননি ধর্মেন্দ্র।
এই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিজয় গঙ্গোপাধ্যায়। জানান, তাঁর বাবা অনিল গঙ্গোপাধ্যায় একসময় ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই ধর্মেন্দ্র স্নেহভরে স্মরণ করেন তাঁকে, বলেন তিনি ছিলেন ভীষণ দয়ালু মানুষ।
শেষ ছবির শুটিং ফ্লোরে ভোররাতে দাঁড়িয়ে থাকা ধর্মেন্দ্রর সেই প্রশ্ন “আমি কেন নাচতে পারব না?”-এখন শুধু একটি ঘটনা নয়, হয়ে উঠেছে এক জীবনের দর্শন। কাজের প্রতি নিষ্ঠা, আত্মসম্মান আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই, এভাবেই হয়তো বিদায় নিলেন এক কিংবদন্তি।
আরপি/টিকে