বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন)।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রিয় নাসিরনগরবাসী আপনারা জানেন ২০০৪ সাল থেকে আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। আমি প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানে এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে দাখিল করা আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। আমি আপনাদের সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। আমি যেন যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে থাকতে পারি।’
উল্লেখ্য, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান আর একে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা। তিনি বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার পর ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা বোট ক্লাবে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সংসদ সদস্য একরামুজ্জামান। সভায় নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি অংশ নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলার ছড়ি প্রতীকে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।
এর আগে, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন একরামুজ্জামান। তিনবারই তিনি পরাজিত হন।
পিএ/টিএ