নিক ম্যাডিনসনের কাছে ক্রিকেট এখন আর শুধু পেশা নয়, বরং বেঁচে থাকার আনন্দের প্রতীক। টেস্টিকুলার ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ ও কষ্টকর লড়াইয়ের পর ক্রিকেটে ফিরে এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার বুঝেছেন যে, মাঠে নামাটাই এখন তার সবচেয়ে বড় জয়।
গত অফ-সিজনে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর নয় সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয় ম্যাডিনসনকে। সেই সময় ক্রিকেট ছিল তার চিন্তার অনেক বাইরে। শরীর এতটাই দুর্বল ছিল যে, বিছানা থেকে ওঠা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই হয়ে উঠেছিল কঠিন। সবচেয়ে কষ্টের ছিল আড়াই বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে খেলতে না পারা। শক্তি না থাকায় ছেলেকে পার্কে নিয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও করতে পারেননি তিনি।
চিকিৎসা শেষে ধীরে ধীরে জীবনে ফেরার পথে হাঁটেন ম্যাডিনসন। গ্রেড ক্রিকেট দিয়ে শুরু, এরপর বিগ ব্যাশে সিডনি থান্ডারের হয়ে প্রত্যাবর্তন। মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে ম্যাচে অপরাজিত ৩০ রান করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। ছয় মাস আগেও যেটা তার কাছে ছিল অনিশ্চিত এক স্বপ্ন।
৩৪ বছর বয়সী ম্যাডিনসন জানেন, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে আবার সুযোগ পাওয়া কঠিন হতে পারে। সেটা এখন তার প্রধান ভাবনা নয়। তার কথায়, চাপ কমিয়ে ক্রিকেট খেলাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কত বছর খেলতে পারবেন, তা নিয়েও তার কোনো হিসাব নেই। যতদিন ভালো লাগবে, ততদিনই খেলতে চান।
এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন বন্ধুরা। অ্যাডাম জাম্পার মতো শৈশবের বন্ধুদের সমর্থন তাকে মানসিকভাবে শক্ত করে তুলেছে। কেমোথেরাপি শেষ হতেই পরিবার নিয়ে জাম্পার বাসায় সময় কাটিয়েছেন ম্যাডিনসন।
এমআই/টিএ