নব্বইয়ের দশকে পর্দা কাঁপানো এক অ্যাকশন হিরো সুনীল শেট্টি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিলেও, ছেলের ক্যারিয়ার নিয়ে হয়তো মনের কোথাও একটা চাপা যন্ত্রণা ছিল তার। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান আর বড় পর্দায় ছেলের দ্বিতীয় ইনিংসের শুভযাত্রায় এবার মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন এই মেগাস্টার।
সম্প্রতি তার কালজয়ী সিনেমা ‘বর্ডার’-এর সিক্যুয়েল ‘বর্ডার ২’-এর গান মুক্তির এক জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে বাবা সুনীল শেট্টির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার যোগ্য উত্তরসূরি আহান শেট্টি। ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না আহানের।
অভিষেক সিনেমা ‘তড়প’ বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ না দেখায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার সেই কালজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘বর্ডার ২’-এ সুযোগ পাওয়ায় আবেগ সামলাতে পারেননি বাবা।
অনুষ্ঠানে কান্নাসিক্ত কণ্ঠে সুনীল শেট্টি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন সুনীল শেট্টির ছেলে বলেই আহান খুব সহজে কাজ পায়। কিন্তু সত্যিটা হলো, ওর পথ চলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ওকেও অনেক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে ও ‘বর্ডার ২’-এর মতো এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।’
ছেলের প্রতি উপদেশ আর দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘পরিচালক জেপি দত্তর কারণেই অহান এই বিশাল সুযোগটি পেয়েছে। তবে আমি ওকে সবসময় বলি, পর্দায় শুধু সেনার ইউনিফর্ম পরলেই সব হয় না। কাঁটাতারের ওপারে যারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেন, তাদের প্রতি সম্মান রাখাটা সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আমরা সবাই তাদের কাছে ঋণী।’
বাবার এমন আবেগঘন মুহূর্ত দেখে উপস্থিত দর্শকরাও হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহ জানান। নেপোটিজম বা স্বজনপ্রীতির বিতর্ক ছাপিয়ে এদিন এক বাবার দীর্ঘ লড়াই আর ছেলের আগামীর স্বপ্নের জয়গানই প্রাধান্য পেল মঞ্চে।
এমআই/টিএ