ইরানের জনগণের দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ অব্যাহত রাখা এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া উচিত বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করেছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যান—আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন!!!’
তিনি আরো লেখেন, ‘হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদকারীদের অর্থহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য পথে রয়েছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি বারবার দেওয়া ট্রাম্প তার বার্তার শেষে ‘মিগা’—‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ লিখে স্বাক্ষর করেন।
প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুত ‘সাহায্য’ কী ধরনের হবে, তা স্পষ্ট করেননি।
তবে এই বার্তায় ইসলামী প্রজাতন্ত্রে সরকার উৎখাতের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা এক দিন আগের মার্কিন অবস্থান থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তেহরানের সঙ্গে কূটনীতির একটি পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি জানান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরান ‘অনেক ভিন্ন সুর’ গ্রহণ করছে।
ট্রাম্প সোমবারই ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। একই সময়ে একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, দমন অভিযানে অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ধারাবাহিক কয়েক রাতের ব্যাপক বিক্ষোভের পর তারা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। এসব বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, যে বিপ্লবে শাহকে উৎখাত করা হয়েছিল।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে এবং বলেছে, চার দিনের বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধ রেখে দমন অভিযানের প্রকৃত মাত্রা আড়াল করা হচ্ছে।
এবি/টিএ