আদালত চত্বরে 'ছাত্রলীগ' আখ্যা দিয়ে যুবককে মারধর, ছাত্রদল নেতাকে আইনজীবীদের ধাওয়া

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আসা সজিব নামে এক যুবককে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে মারধর ও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাধারণ আইনজীবীদের তোপের মুখে ওই ছাত্রদল নেতা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সজিব তার স্ত্রীর দায়ের করা একটি যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। মামলার কার্যক্রম শেষে বিকেলে তিনি এজলাসের সামনে অবস্থান করছিলেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান একদল অনুসারী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি সজিবকে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘ছাত্রলীগ’–এর কর্মী হিসেবে অভিযুক্ত করে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে টেনেহেঁচড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা বাধা দেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজিব মণ্ডল জানান, সজিব এক লাখ টাকা কাবিনে সানু আক্তার শান্তা নামের এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই নারীর আগের চারটি বিয়ের তথ্য ফাঁস হলে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এরই জেরে সানু আক্তার তার স্বামীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মোট পাঁচটি মামলা করেন।

রাজিব মণ্ডল অভিযোগ করেন, 'ছাত্রদল নেতা ফারহান পরিকল্পিতভাবে একটি 'মব' তৈরি করে সজিবকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে আইনজীবীদের চাপের মুখে ফারহান আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।'

তবে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান। তিনি বলেন, 'সজিব ছাত্রলীগ করত, এর যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই উল্টো আমাকে বাধা দেন এবং হেনস্তা করেন। পরে নিজের পরিচয় দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেন।'

ইউটি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
শিক্ষানবিশ ৯৬ এএসপির ছয় মাসের প্রশিক্ষণের জন্য বদলি Jan 15, 2026
img
বিক্ষোভকারী সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান Jan 15, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে ব্যয় কত? Jan 15, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ Jan 15, 2026
img
সাদিও মানের দুরন্ত গোলে মিশরকে হারিয়ে আফকনের ফাইনালে সেনেগাল Jan 15, 2026
img
মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র Jan 15, 2026
img
গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকের বৈঠক Jan 15, 2026
img
বিরূপ আচরণ নয়, নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির Jan 15, 2026
img
খুলনা-৫ আসনে জাপা প্রার্থী পারভীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা Jan 15, 2026
img
৭ ডিগ্রির ঘরে নেমেছে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা, বইছে শৈত্যপ্রবাহ Jan 15, 2026
img
চট্টগ্রামে বিসিবির অনূর্ধ্ব-১৮ সিলেকশন ক্যাম্প সম্পন্ন, স্কিল ক্যাম্প শুরু আজ Jan 15, 2026
img
জোট নেতাদের খোঁজখবর নিলেন তারেক রহমান Jan 15, 2026
img
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করল ইরান Jan 15, 2026
img
মাদারীপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও আহত ৫ Jan 15, 2026
img
পটুয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন Jan 15, 2026
img
বিএনপি থেকে পদত্যাগ, জামায়াতে যোগ দিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি Jan 15, 2026
img
১৫ বছর পর প্রকাশ্যে মডেল মানোহারার সেই বিতর্কিত বিয়ের অজানা অধ্যায় Jan 15, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মধ্যে ইরানকে কী বার্তা দিল সৌদি? Jan 15, 2026
img
অব্যাহতি চেয়ে জয়-পলকের আইনজীবীর শুনানি আজ Jan 15, 2026
img
ইরানে দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাজ্য Jan 15, 2026