যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি খুবই ভদ্র মানুষ মনে হয়, তবে তিনি আদৌ ইরানের ভেতরে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না- তা নিয়ে আমি নিশ্চিত না।
বুধবার ওভাল অফিসে রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন এবং ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে বিচার বিভাগের তদন্তে রিপাবলিকানদের সমালোচনা উড়িয়ে দেন।
ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আগেও আন্দোলনকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
তবে বুধবার তিনি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি খুব ভালো মানুষ মনে হয়, কিন্তু নিজের দেশে তিনি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবেন, তা আমি জানি না। আর আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।
তিনি আরো যোগ করেন, আমি জানি না তার দেশ তার নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না।
তবে যদি নেয়, তাহলে সেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এবার তার মন্তব্যে আরো স্পষ্টভাবে পাহলভির নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এলো।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর হলেও ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো নানা মতাদর্শে বিভক্ত। রাজতন্ত্রপন্থীরা পাহলভিকে সমর্থন করলেও দেশটির ভেতরে বিরোধীদের সংগঠিত উপস্থিতি সীমিত।
ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভের চাপে তেহরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো- যেকোনো সরকারই ভেঙে পড়তে পারে। তবে পতন হোক বা না হোক, সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর শেষের পথে থাকা ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে ওভাল অফিসের রেজল্যুট ডেস্কে বসে ডায়েট কোক পান করেন।
একপর্যায়ে তিনি একটি মোটা ফাইল দেখিয়ে বলেন, এতে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ শপথ নেওয়ার পর থেকে তার অর্জনগুলোর নথি রয়েছে।
এদিকে তিনি নভেম্বরের কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রত্যাশা নিয়েও বাস্তববাদী মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, সাধারণত প্রেসিডেন্সি জিতলে মধ্যবর্তী নির্বাচন জেতা যায় না। তবুও আমরা খুব চেষ্টা করব মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে।
এমআই/এসএন