পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাম্প্রতিক একটি বড় অভিযোগের ভিত্তিতে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, বিষয়টি দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এক, এটি কোনো পরিকল্পিত খেলার অংশ হতে পারে। দুই, সংশ্লিষ্টদের প্রকৃত অযোগ্যতার ফলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের অযোগ্যতার বিষয়টি নতুন কিছু নয়।
সম্প্রতি একটি টকশো প্রোগ্রামে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অযোগ্যতার দিকটাই দেখবো। যখন কোনো সমস্যার বাস্তব সমাধান পাওয়া যায় না, তখনই ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়।’
তিনি প্রশ্ন তুলেন, ‘যদি সত্যিই এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে কে এই ষড়যন্ত্র করছে? তখন তো আবার কাউকে ‘ভিলেন’ বানাতে হবে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ব্লেম গেমে গিয়ে ঠেকবে। তার চেয়ে বরং সহজ ও বাস্তব ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য সবারই হয়তো ভালো নিয়ত ছিল, কিন্তু অযোগ্যতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে কমিশনের ভেতরে যারা আছেন, তাদের অনেকেরই নির্বাচন পরিচালনার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। আগে কখনো ছিলও না।
বিভিন্ন দপ্তর থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যারা ১৫-২০ বছর আগে অবসর নিয়েছেন হঠাৎ করে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা এতদিন প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিলেন, তাদের এনে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক পদ্ধতি হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এর বিকল্প অনেক পথ ছিল। ধরুন, একজন তরুণকে দায়িত্ব দেওয়া হলো-সে ব্যর্থ হলে তাকে চাপ দেওয়া যেত, সে তখন দৌড়ঝাঁপ করে হলেও কোনো সমাধান বের করার চেষ্টা করত। কিন্তু ৭৫ বছরের বেশি বয়সী কাউকে যদি বলা হয়, “আপনি এটা পারেননি,” তাহলে তিনি কী করবেন? দৌড়ঝাঁপ তো দূরের কথা, স্বাভাবিক গতিতেই কাজ করাও তার পক্ষে কঠিন।
দৌড়ঝাঁপেরও একটা ফল আছে, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের গতি কমে এটাই প্রকৃতির নিয়ম।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার নিজেই তো একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মানুষকে অবসরে পাঠায়। যদি তাদের কর্মক্ষমতা এতটাই ভালো হতো, তাহলে তো সরকার বলত আপনি আজীবন কাজ করে যান।’
এসএস/এসএন