কেন গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প?

ভেনেজুয়েলা, ইরান ও ফিলিস্তিনের গাজার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আরেকটি নাম-গ্রিনল্যান্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপটি দখলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে খনিজ সম্পদ উত্তোলন ব্যয়সাপেক্ষ, সেখানে কেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এত আগ্রহ? এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার তর্কও খুব যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে সম্ভবত তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কিছু মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি মার্কিন আগ্রাসন হয়, তবে ন্যাটো জোটও সেই প্রভাবের বাইরে থাকবে না।


মূলত দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি তুলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনল্যান্ড প্রয়োজন। এমনকি দ্বীপটিতে সামরিক অভিযানের হুঁমকিও দিচ্ছেন তিনি।


গ্রিনল্যান্ড নামের বরফ আচ্ছাদিত দ্বীপটির অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশের মাঝখানে। এর পাশ দিয়েই সবচেয়ে কম সময়ে ইউরোপ পৌঁছাতে পারে মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ। একইসাথে পশ্চিম ইউরোপের জলসীমায় টহল দিতে রুশ সাবমেরিন নজরদারিতে রাখতেও দ্বীপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।


তবে, গ্রিনল্যান্ড কোনো শত্রু দেশের ভূখন্ড নয়। ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ। পিটুফিক নামের একটি সুসজ্জিত মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে দ্বীপটিতে। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে অবাধে চলাচল আর সামরিক স্থাপনা তৈরির অধিকারও আছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর। তাই জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনাকে ভিত্তিহীন মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মিক্কেল রুঙ্গে ওলেসেন বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে দেখলে ট্রাম্পের যুক্তির তেমন ভিত্তি নেই। ডেনমার্কের সাথে যে চুক্তি আছে তা বাস্তবায়ন করলে আর রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পেতে পারে।


তবে, কি দ্বীপটির অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের দিকেই নজর মার্কিন প্রেসিডেন্টের? বিশ্লেষকদের ধারণা সেটিও মূল উদ্দেশ্য নয়। দ্বীপটিতে জীবাশ্ম জ্বালানী আর দুর্লভ খনিজের অশেষ ভান্ডার থাকলেও তা উত্তোলন বেশ ব্যায়বহুল। তাই এ খাতে বিনিয়োগে অনীহা মার্কিন কোম্পানিগুলোর। এমন সমীকরণে ট্রাম্পের ভিন্ন কোনো মতলব আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


ওই বিশ্লেষক আরও বলেন, এ নিয়ে তৃতীয় একটি সম্ভাব্য যুক্তিও আছে। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’, কিংবা বলা যায় ‘আমেরিকাকে আরও বড় করা’। অর্থাৎ ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট মার্কিন ভূখন্ডকে বিস্তৃত করেছিলেন। ট্রাম্প হয়তো সেই দলেই নাম লেখাতে চান।


কোনমতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা সত্যি হলে তা ন্যাটো জোটের পতনের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও এমন শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন।


এসএস/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
কেউ ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমাতে পারবে না: তারেক রহমান Jan 17, 2026
img
শাকিব খান ও জেমসকে নিয়ে আসিফের ২ প্রশ্ন Jan 17, 2026
img
অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৮ Jan 17, 2026
img
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন এস এম জাহাঙ্গীর Jan 17, 2026
img
সিদ্ধার্থের জন্মদিনে কিয়ারার আদুরে বার্তা! Jan 17, 2026
img
আপিল শুনানিতে বৈধতা পেলেন বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন Jan 17, 2026
img
নারীকে বাদ দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ঘটবে না: উপদেষ্টা শারমীন Jan 17, 2026
img
দীর্ঘ বিরতি শেষে ২ ছবিতে ফিরছেন তমা মির্জা Jan 17, 2026
img
বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা Jan 17, 2026
img
ভারতের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Jan 17, 2026
img
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে নেমেছেন ৩৫ জন সাঁতারু Jan 17, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি দেখতে মাঠে ইইউয়ের ৫৬ পর্যবেক্ষক Jan 17, 2026
img
সালমানের পর এবার বিষ্ণোইদের নিশানায় গায়ক বি প্রাক Jan 17, 2026
img
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা Jan 17, 2026
img
গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় Jan 17, 2026
img
ইসিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার Jan 17, 2026
img
জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত Jan 17, 2026
img
জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ পাচ্ছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার ভ্যান-এর নতুন পোস্টার Jan 17, 2026
img
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টস হতে দেরি Jan 17, 2026
img
সম্পর্ক ভাঙলেও নবনীতার সাথে বন্ধুত্ব অটুট জীতু কমলের! Jan 17, 2026