নিরাপত্তা দিতে যদি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, তাহলে রাষ্ট্র ধারণাই ফিকে হয়ে আসে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে; প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে দলটি বলছে, যা করার তাই করুন। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। কারণ রাষ্ট্রের কাছে মানুষ প্রধানত নিরাপত্তাই কামনা করে। সেই নিরাপত্তা দিতে যদি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, তাহলে রাষ্ট্র ধারণাই ফিকে হয়ে আসে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে একথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাতে বলেন, ২০২৫ সালে ৬৪৩টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ৫৪ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ দাফন ও সৎকার করা হয়। 

এদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাসে দেশে মোট চার হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে। ২০২৪ সালেও ৫৭০ লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালে ৭৩টি বেশি লাশ দাফন করা হয়।

তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে তা বুঝতে এই তথ্যই যথেষ্ট। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কা বোধ করছি।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা বারবার বলেছি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আন্তরিক ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের কথা ও দাবিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর কারণ আমরা জানি না। এটা কি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদিচ্ছার অভাব নাকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোমাত্রায় সক্রিয় করতে না পারার ব্যর্থতা তা জাতি জানতে চায়। পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও মাঠে কর্মরত আছে। তারপরেও এমন উঁচু মাত্রায় অপরাধ জারি থাকা আমাদেরকে শঙ্কিত করে। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে। জাতীয় নেতারা গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে যাবে। তাদের নিরাপত্তা, কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে উৎসবমুখর নির্বাচনের যে স্বপ্ন প্রধান উপদেষ্টা দেখছেন বাস্তবে রূপ নেবে বলে মনে হয় না।

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ইরানে দাঙ্গায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মূল হোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট : খামেনেয়ি Jan 17, 2026
img
নিজেকে মাঝারি বললেও দর্শকের চোখে মেগাস্টার সালমান খান Jan 17, 2026
img
‘জীবনটা যেন নরক হয়ে গিয়েছিল’, হৃতিকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোন তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন কঙ্গনা? Jan 17, 2026
img
আংশিকভাবে চলতি মাসেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে Jan 17, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ Jan 17, 2026
img
প্রভাসের 'দ্য রাজা সাব’ বক্স অফিসে ছুঁয়েছে ২৫০ কোটি! Jan 17, 2026
img
ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান Jan 17, 2026
img
বিএমসি থেকে শিবসেনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আনন্দে আত্মহারা কঙ্গনা রানাউত Jan 17, 2026
img
৩৩০ সন্ত্রাসীর চট্টগ্রামে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করলেন সিএমপি কমিশনার Jan 17, 2026
img
বাংলাতেই মোদি বললেন, ‘এই সরকার পালানো দরকার’ Jan 17, 2026
img
পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে ও বাস উল্টে নিহত অন্তত ২৪ Jan 17, 2026
img
পবন কাল্যাণের নতুন প্রতিশ্রতি, শীঘ্রই শুটিংয়ে যাবে 'ওজি২' Jan 17, 2026
img
গোবিন্দের প্রেমের গুঞ্জন, নিজেকে নেপালি মেয়ে উল্লেখ করে সতর্ক করলেন স্ত্রী Jan 17, 2026
img
মুম্বাইয়ের রাস্তায় টেসলা চালিয়ে শোরগোল ফেললেন সঞ্জয় দত্ত Jan 17, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলেই স্বৈরতন্ত্রের অবসান হবে না : বদিউল আলম Jan 17, 2026
img
২৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙ্গল, সর্বনিম্ন লক্ষ্য দিয়েও জয় Jan 17, 2026
img
বরগুনায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার Jan 17, 2026
img
মুক্তি পেল দক্ষিণী চার মেগাস্টারের নতুন টিজার Jan 17, 2026
img
অন্তরঙ্গ দৃশ্য করতে গিয়ে পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে যায় অভিনেত্রীর Jan 17, 2026
img
ঘরোয়া উপাদানেই লুকিয়ে আছে ইয়ামি গৌতমের ত্বকের রহস্য! Jan 17, 2026