ধানুশ ও সোনম কাপুরের অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘রাঞ্ঝনা’। দিয়ে পরিচালক আনন্দ এল রাই ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘রাঞ্ঝনা’ ছবির আদলেই তৈরি হবে ধানুশের নতুন ছবি ‘তেরে ইশক মে’। ছবিটি মুক্তির পরও বক্স অফিসেও ব্যাপক সফলতার মুখ দেখে ধানুশ-কৃতি শ্যানন জুটি। কিন্তু সেই সাফল্যের মধ্যেই ছবিটি জড়িয়ে পড়ল এক বড় আইনি জটিলতায়।
পরিচালক আনন্দ এল রাই এবং তার প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো প্রোডাকশনস এর বিরুদ্ধে ৮৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে নামী স্টুডিও ইরোস ইন্টারন্যাশনাল।
এই আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছবির স্বত্ব এবং সিক্যুয়েল সংক্রান্ত অধিকার। ইরোসের অভিযোগ, ‘তেরে ইশক মে’ ছবিটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ‘রাঞ্ঝনা’র সিক্যুয়েল হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ২০১৩ সালের কাল্ট হিট ছবি ‘রাঞ্ঝনা’র সমস্ত মেধাস্বত্ব তাদের অধীনেই রয়েছে। তাই ছবিটির কোনো সিক্যুয়েল বা রিমেক নির্মাণ করতে হলে ইরোসের অনুমতি এবং অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
ইরোস ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, পরিচালক আনন্দ এল রাই ও তার প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো প্রোডাকশনস কৌশলে তাদের জনপ্রিয় ছবি ‘রাঞ্ঝনা’র নস্ট্যালজিয়া ব্যবহার করে নতুন ছবি ‘তেরে ইশক মে’র ব্র্যান্ডিং করছে। সংস্থার মতে, এটি বাণিজ্যিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইরোস বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং কালার ইয়েলো প্রোডাকশনসের কাছে ৮৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
এছাড়াও ইরোসের অভিযোগ, ‘তেরে ইশক মে’ ছবিতে ধানুশের অভিনীত ‘শঙ্কর’ চরিত্রটির আবেগ, সংলাপ ও জীবনদর্শনের সঙ্গে ‘রাঞ্ঝনা’র ‘কুন্দন শঙ্কর’ চরিত্রের বিস্ময়কর মিল রয়েছে। সংস্থার দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে তারা ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে একাধিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।
ইরোস জানায়, পরে প্রচার থেকে সাময়িকভাবে ‘রাঞ্ঝনা’ নামটি সরানো হলেও বাস্তবে ছবিটিতে এখনো ব্যাপকভাবে কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন হচ্ছে।
অন্যদিকে, আনন্দ এল রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ‘তেরে ইশক মে’ সম্পূর্ণ আলাদা গল্পের ছবি এবং কোনো ভাবেই এটি ‘রাঞ্ঝনা’র সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। পরিচালকের বক্তব্য, কেবল আবেগ বা ইমোশনের স্তরে কিছু সাদৃশ্য থাকায় এমন ইঙ্গিত তৈরি হয়েছিল।
এসএন