আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে (আফকন) মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর দলটির সবচেয়ে বড় তারকা সাদিও মানে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে মানের অবসরের পরিকল্পনা মানতে রাজি নন সেনেগাল কোচ পেপে থিয়াও।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনের সময় মানে জানান, এটিই তার শেষ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস।
তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন।
মানের এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন কোচ থিয়াও। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। থিয়াও বলেন, ‘দেশ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়, আমিও নই।
আমরা তাকে যতদিন সম্ভব দলে রাখতে চাই। সে শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, সে সেনেগালের সম্পদ।’
সেনেগালের হয়ে মানের অবদান ইতোমধ্যেই ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে। তিনি ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো আফকন জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এবারের আসরেও ছিলেন দলের মূল ভরসা। ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলের মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেন তিনি, আর সেমিফাইনালে মিসরের বিপক্ষে একমাত্র গোলটিও আসে তার পা থেকেই।
কোচ থিয়াও আরও বলেন, ‘সে বিশ্বে সেনেগাল ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে। মানে যখন বলে এটি তার সিদ্ধান্ত, তখনও আমি মনে করি, এটা শুধু তার একার নয়। সে পুরো দেশের।
তার বিনয়, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’
এমনকি থিয়াও মন্তব্য করেন, “যদি আমাকে কাগজে সই করে তাকে ছাড়ার অনুমতি দিতে হতো, আমি ‘না’ বলতাম। তার সতীর্থরাও তাই বলত।”
তবে কোচের এই আবেগী অনুরোধ সত্ত্বেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তে অটল মানে। বিশ্বকাপের পর তিনি ক্লাব ফুটবলে পুরো মনোযোগ দিতে চান। আগামী এপ্রিলে তার বয়স হবে ৩৪ বছর, ফলে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের দিকেই এগোচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে মানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। প্রতিবছর আনুমানিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেন তিনি। চুক্তি নবায়ন করবেন নাকি অন্য কোনো ক্লাবে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আরআই/টিকে