ভারতের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওডিআই সিরিজ হার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। গতকাল, ১৮ জানুয়ারি, ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে ৪১ রানে হেরে যায় শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। এই পরাজয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক ভক্তই প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে আক্রমণের নিশানা বানান।
ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের সময়কাল এখন পর্যন্ত বেশ অস্থির।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নজিরবিহীন সাফল্য পেলেও, ওডিআই ও টেস্টে তার দলের পারফরম্যান্স ছিল সর্বোচ্চ মাঝারি মানের।
যদিও তার কোচিংয়েই ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে ভারত, তবে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া এবং সর্বশেষ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ হারও মানতে হয়েছে দলকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ক্রিকেটভক্ত গম্ভীরের কোচিং আমলে দল পরিচালনায় ‘অরাজকতা’ চলছে বলে মন্তব্য করেন।
‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ হার।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হার। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য করা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ প্রায় হেরে বসা।
রোহিত শর্মার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ হার। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ। সেনা দেশগুলোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৫টির ৫টি টেস্ট হার’ -নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ শেষ হওয়ার পর এমনই লিখেছেন এক সমর্থক।
আগামী পাঁচ মাস ভারতের কোনো ওডিআই ম্যাচ নেই।
ফোকাস যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে সরে যাচ্ছে, তখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ওডিআই সিরিজ একটি বড় প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওডিআই বিশ্বকাপের পথে ভারতীয় দলের জন্য গৌতম গম্ভীর কি আদৌ সঠিক ব্যক্তি?আগামী পাঁচ মাস ভারত কোনো ওডিআই বা টেস্ট ম্যাচ খেলবে না।
এই বিরতিতেই নির্বাচক ও বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি সামনে রয়েছে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ। সেই পথে এগোতে বর্তমান কোচিং স্টাফ ও দল গঠনে পরিবর্তন আসবে কি না, এখন সেটাই ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
পিএ/টিকে