আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশের শাসকদের ব্যবহার করে দেশকে মক্কেল রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। তবে জনগণের রায়ে স্পষ্ট, বাংলাদেশ আর কখনো মক্কেল রাষ্ট্র হবে না।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুরের বহু বিএনপি নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গুম, খুন ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সারা দেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও বিএনপির নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ঝুলিয়ে পেটানোসহ ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে। তবু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে থাকেনি।’
তিনি বলেন, ‘একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিয়েছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়। বাঞ্ছারামপুরবাসী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সাকি আরো বলেন, ‘আমাদের লড়াই শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ছিল। যে সরকার দেশ থেকে ন্যায়বিচার উধাও করে দিয়েছিল, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কারা তাদের প্রতিনিধি হবে। সংবিধান এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো শাসক ইচ্ছামতো তা পরিবর্তন করতে না পারে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এই সংস্কার হতে হবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ছাড়া টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়।’
নির্বাচিত সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয়ই এখন জাতীয় স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন পেছানো বা বানচালের যে কোনো ষড়যন্ত্র দেশকে গভীর সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য। আমাদের সামনে কয়েকটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি। সাকি আরো বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই যেখানে ক্ষমতায় আসা-যাওয়া হবে শুধু জনগণের ভোটে। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে। তাদের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মূসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম. ম. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এইচ জেড শুকরী সেলিম, গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শামীম শিবলীসহ প্রমুখ।
আইকে/টিএ