ইতালির বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ভ্যালেন্তিনো গারাভানি মারা গেছেন। ‘ভ্যালেন্তিনো’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই কিংবদন্তির মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। গতকাল সোমবার ইতালির রাজধানী রোমে তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২০ শতকের ফ্যাশন জগতের অন্যতম দিকপাল ভ্যালেন্তিনোর নকশা করা পোশাক পরেছেন এলিজাবেথ টেলর, ন্যান্সি রিগ্যান, শ্যারন স্টোন, জুলিয়া রবার্টস ও গুইনেথ প্যালট্রোর মতো অসংখ্য তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
১৯৬০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভ্যালেন্তিনো’ ফ্যাশন হাউস। ফ্যাশন দুনিয়ায় তিনি জর্জিও আরমানি ও কার্ল ল্যাগারফেল্ডের মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভ্যালেন্তিনো গারাভানি ও জিয়ানকার্লো জিয়ামেত্তি ফাউন্ডেশন জানায়, ‘রোমে নিজের বাড়িতে পরিবারের ভালোবাসায় ঘেরা অবস্থায় তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
ফাউন্ডেশন আরো জানায়, ২১ ও ২২ জানুয়ারি রোমের পিয়াজা মিনিয়ানেলিতে ভ্যালেন্তিনোর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরদিন ব্যাসিলিকা অব সেন্ট মেরি অব দ্য অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড মার্টায়ার্সে অনুষ্ঠিত হবে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান।
১৯৩২ সালের মে মাসে ইতালির লোম্বার্দি অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ভ্যালেন্তিনো বিলাসিতা, ঐশ্বর্য ও আভিজাত্যে ভরপুর নকশার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি প্যারিসে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।
পরবর্তী সময় তিনি জাক ফাথ, বালেন্সিয়াগা, জ্যাঁ দেসে ও গি লারোশের মতো নামকরা ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেন।
স্পেন সফর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা তার সিগনেচার কালাচ ‘ভ্যালেন্তিনো রেড’ ব্র্যান্ডটিকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। আইকনিক ‘ফিয়েস্তা ড্রেস’-এর মাধ্যমে এই রং বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়।
২০০৮ সালে তার শেষ কালেকশনে সব মডেলই লাল পোশাক পরে র্যাম্পে হাঁটেন—যা ‘ভ্যালেন্তিনো রেড’-এর প্রতি তার ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।
২০১৩ সালের জুনে সুইডেনের প্রিন্সেস মাদেলেইনের বিয়ের পোশাকও ডিজাইন করেছিলেন ভ্যালেন্তিনো।
তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান অর্থলগ্নিকারী ক্রিস্টোফার ও’নিলকে বিয়ে করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে তাকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ সম্মানিত করা হয়।
ব্রিটিশ ভোগের সাবেক সম্পাদক-ইন-চিফ আলেক্সান্দ্রা শুলম্যান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক খবর। আধুনিক যুগের শেষ দিকের মহান ডিজাইনারদের একজন ছিলেন তিনি। মানুষ একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে যেমন দেখতে চায়, ভ্যালেন্তিনো ঠিক তেমনই ছিলেন।’
শুলম্যান আরো বলেন, ‘সবচেয়ে ট্রেন্ডি বা পরীক্ষামূলক ডিজাইনার হওয়ার চেষ্টা তার ছিল না। তিনি শুধু সুন্দর পোশাক বানাতে চেয়েছিলেন—এবং সেটাই তিনি করে গেছেন।’
সূত্র : বিবিসি
আরআই/টিকে