ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন রিকি পন্টিং। টেস্ট ও ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ রান স্কোরার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন দুটি বিশ্বকাপ। ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষিক্ত পন্টিং নব্বই দশকের শেষ দিকে নিজেকে অন্যভাবে চেনান। তার অনুপ্রেরণা ছিল ডব্লিউডব্লিউই লিজেন্ড দ্য আন্ডারটেকারের একটি পোস্টার।
ক্রিকেটের পাশাপাশি পন্টিংয়ের দুর্বলতা ছিল রেসলিংয়ে। দ্য আন্ডারটেকারের ভক্ত ছিলেন তিনি। সাবেক অস্ট্রেলিয়া ফাস্ট বোলার জেসন গিলেস্পি তার সেই ভালোবাসা আর আবেগের স্মৃতি ফেরালেন।
এসইএন-এর দ্য স্পোর্টিং ক্যাপিটালের সঙ্গে আলাপে গিলেস্পি বলেন, ‘রিকি পন্টিং অস্ট্রেলিয়ার সেরা খেলোয়াড়দের একজন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় রান স্কোরার। সে ছিল চমৎকার একজন অধিনায়ক।’
প্রায় তিন দশক আগে ফিরে গেলেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার, ‘একটা মৌসুমের কথা মনে পড়ে- এটা ১৯৯৭ বা ’৯৮ হবে- আমি ইনজুরিতে ছিলাম। পিঠে ব্যথা ছিল। তাই মাঠের বাইরে ছিলাম। দল এসেছিল অ্যাডিলেডে, আমি জানতাম রিকি রেসলিংয়ের এক বিরাট ভক্ত। আর সে ভালোবাসতো দ্য আন্ডারটেকারকে।’
লিজেন্ডারি রেসলারের একটি পোস্টার পন্টিংকে উপহার দিয়েছিলেন গিলেস্পি। তারপর বদলে গেল সবকিছু, ‘আমার একটা রেসলিং ম্যাগাজিন ছিল। একেবারে মাঝের পাতাটা ছিল আন্ডারটেকারের পোস্টার। সেটা আমি ছিঁড়ে নেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া দলের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলাম, সেটা দিয়েছিলাম রিকিকে। তাকে বলেছিলাম, ‘এই যে, দ্য আন্ডারটেকারের এই পোস্টার পেয়েছি।’ সে সেটা দেখল, শুধু মাথা নাড়ল, তারপর সরাসরি ব্যাগে ঢুকাল।’
পরের দিন কী হলো তাও বললেন গিলেস্পি, ‘পরের দিন সে মাঠে নামল, তারপর একটি সেঞ্চুরিও করল। তারপর থেকে বাকি মৌসুমে সে আন্ডারটেকারের পোস্টার কখনো অন্য কোথাও রাখেনি। কারণ ক্রিকেট খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন খেলা এবং অনেক খেলোয়াড় তাতে বিশ্বাসী। সে বলেছিল, ‘এই আন্ডারটেকার পোস্টার আমার ব্যাগে ছিল, যখন আমি সেঞ্চুরি করলাম। তাই এটা আমার কাছেই থাকছে।’’
পরে দীর্ঘদিন সেই পোস্টার পন্টিং সঙ্গেই রাখতেন। গিলেস্পি বললেন, ‘যখন যেখানে যেত, সে তার লকারে রাখত। আন্ডারটেকারের পোস্টার সবসময় তার সঙ্গে থাকত। সেও রান করে যেতে থাকল। জানি না কুসংস্কার দূর হওয়ার আগে সেটা কতদিন সঙ্গে রেখেছিল সে, কিন্তু হ্যাঁ- রিকি ছিল বিরাট ভক্ত।’
পিএ/টিকে