বাংলাদের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্য ঘিরে গেল বৃহস্পতিবার ক্রিকেটাঙ্গনে ছিল আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সেদিন তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি বিসিবি। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও নাজমুলের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে শোকজ করা হলে, সেটার জবাব দেন দিন দুয়েক পর।
নিয়ম অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে হয়, তবে নির্ধারিত সময়ে জবাব দেননি নাজমুল। ফলে গেল রোববার ডিসিপ্লিনি কমিটির কাছে জবাব দেন নাজমুল। এরপর চিঠি পড়ে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায় বিসিবি।
সবশেষ আজ মঙ্গলবার জানা গেল পরবর্তী বোর্ড সভাতে নাজমুল ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আগামী ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) বিসিবিতে হবে বোর্ড সভা। দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিসিবির একজন পরিচালক এমনটি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি নাজমুলকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে বিসিবি থেকে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না? জবাবে বিসিবি পরিচালক নাজমুল বলেছিলেন, ‘বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। কারণ ক্রিকেটাররা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচসেরা হলেও পারফরম্যান্স অনুযায়ী (আলাদা ফি) পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য। ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি?’
ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে সেদিন রাতেই নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ চেয়ে বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা করে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। সে কারণে পরদিন বিপিএলের দুটি ম্যাচই স্থগিত হয়ে যায়।
এমনকি রাতের ম্যাচ না খেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত ঘোষণা করে বিসিবি। পরে রাতে বিসিবি ও কোয়াবের বৈঠক শেষে বদলে যায় দৃশ্যপট। শর্তসাপেক্ষে খেলায় ফেরার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। সেদিন সকালে নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি।
এসকে/এসএন