বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও শহরাঞ্চলের জলনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সংকট তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যমান খালগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান তার ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের চলমান জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ, শিক্ষা সংস্কার, যুবসমস্যা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকট মোকাবিলায় একটি ব্যাপক ও সুসংগঠিত পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকার সবুজায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে এসে লক্ষ্য করেছেন রাজধানীতে আগের তুলনায় সবুজ কমে গেছে এবং পরিবেশ অনেকটা শুষ্ক হয়ে উঠেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং পরিবেশ উপযোগী বনায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দুই বছর ধরে গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপযোগী গাছ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের সমালোচনা রাজনীতির স্বাভাবিক চর্চা হলেও এখন সংকট সমাধানে কথা বলা ও কাজ করার সময় এসেছে।
ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজধানী থেকে বের হওয়া এখন যুদ্ধের মতো অবস্থা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ট্রাফিক সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
মোহাম্মদপুর, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোরেলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিরা গণপরিবহন ব্যবহার করেন।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি খেলায় ও একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে সেকেন্ডারি পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা চালুর কথা বলেন তিনি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, জার্মান, ম্যান্ডারিন, আরবি ও জাপানিজ ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে বলে জানান।
আইটি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পেপালের মতো প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইটি পার্কগুলোকে সক্রিয় করা হবে। এসব আইটি পার্কে ফ্রি ওয়াইফাই ও ফ্রি ওয়ার্কিং স্পেসের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কোনো সেন্ট্রাল অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম নেই এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন ঢাকা শহরে প্রায় ৭ হাজার টন ময়লা আবর্জনা উৎপন্ন হয়। এই বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও রিসাইক্লিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মাধ্যমে যে পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণসহ দেশের পানি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যুব কর্মসংস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি।
কেএন/এসএন