অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বিচার বিভাগে ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটছে। ই-বেইল বন্ড প্রবর্তনের ফলে জামিন পাওয়ার পর এখন আর কাউকে অনর্থক সময় কিংবা সপ্তাহকাল কারাগারে থাকতে হবে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের আটটি জেলায় একযোগে ‘ই-বেইল বন্ড’ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বোধনকালে ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগে জামিন মঞ্জুরের পর মুক্তি পেতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চরম মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার পরও মুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দিন বা সপ্তাহকাল লেগে যেত।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলখানায় পৌঁছে যাবে। ফলে কারাগারে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ একদিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, এই সিস্টেমে প্রতিটি ধাপের তথ্য এবং কে কখন স্বাক্ষর করছেন তা ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এর ফলে অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম এরাশাদুল আলম ও খাদেমুল কায়েসসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, কারা অধিদপ্তর ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
টিজে/এসএন