ভিন্ন প্রজন্মের দুই বলিউড কিংবদন্তি দেব আনন্দ ও শাহরুখ খান। চলচ্চিত্র জগতে দুজনের যাত্রাকাল ভিন্ন হলেও দুজনেই নিজ নিজ সময়ে সেরা রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। পর্দার বাইরেও এক উষ্ণ ও আন্তরিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এই দুই অভিনেতা। দেব-শাহরুখের এই সম্পর্ক অনলাইনের যুগ শুরু হওয়ার অনেক আগেই গড়ে ওঠে, যার সাক্ষী ছিলেন দেব আনন্দের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহন চুরিওয়ালা। সম্প্রতি চলচ্চিত্র সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।
চুরিওয়ালা জানান, দেব আনন্দ শাহরুখ খানকে কেবল একজন সুপারস্টার হিসেবেই দেখতেন না, বরং একজন মানুষ হিসেবে তার প্রতি গভীর স্নেহশীল ছিলেন। এর অন্যতম উদাহরণ ২০০৯ সালের একটি হাই-প্রোফাইল পার্টি। অনিল আম্বানির আয়োজনে রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট ও স্টিভেন স্পিলবার্গের যৌথ উদ্যোগ উদযাপনের সেই অনুষ্ঠান বলিউডের নামী-দামী তারকাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে দেব আনন্দ হঠাৎ লক্ষ্য করেন, শাহরুখ খান গোপনে নিচু হয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেন।
চুরিওয়ালার ভাষায়, দেব আনন্দ তখন শাহরুখকে স্নেহভরে বলেন, 'শাহরুখ, তুই খুব ভালো একটা ছেলে। কিন্তু কেন এত ধূমপান করিস? এসব ছেড়ে দে।' জবাবে সম্মানের সহিত শাহরুখ মৃদু হেসে বলেন, 'আমি চেষ্টা করব, স্যার।' এছাড়া শাহরুখ দেব আনন্দকে অত্যন্ত সম্মান করতেন বলেও জানান তিনি।
আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে লন্ডনের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ক্যাফেতে। দেব আনন্দ ও চুরিওয়ালা সেখানে কফি খাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গৌরী খান তার বন্ধু সুজান খানের সঙ্গে পাশের টেবিলে বসে দেব আনন্দকে দেখে এগিয়ে আসেন। দেব আনন্দ গৌরীকে নাম ধরে চিনে নেওয়ায় আনন্দিত হয়ে গৌরী সঙ্গে সঙ্গে শাহরুখ খানকে ফোন করে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানান যে দেব আনন্দ তাকে চিনতে পেরেছেন। চুরিওয়ালার ভাষায়, 'রেস্তোরাঁয় তখন এক নাটকীয় মুহূর্তের তৈরি হয়েছিল।'
এছাড়া শাহরুখ নিজেও বিভিন্ন সময়ে দেব আনন্দের প্রভাবের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালের এক অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেব আনন্দ একবার তাকে বলেছিলেন যদি তিনি কাজ বন্ধ করে দেন, তাহলে শেষ হয়ে যাবেন।
সেই উপদেশই নাকি শাহরুখকে পরবর্তীতে নিরন্তর কঠোর পরিশ্রমে অনুপ্রাণিত করেছে। শাহরুখ জানান, তাই কোনো ছবি সফল হলেও তিনি তার সাফল্যের উপর বসে থাকেন না। আবার নেতিবাচক সমালোচনাতেও থেমে যান না বলিউড বাদশাহ।
এমকে/টিএ