যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদ’-এর সনদে স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে এই সনদে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প একটি কলম হাতে নিয়ে হাসিমুখে স্বাক্ষর করেন এবং সেগুলো ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন। এরপর অন্য বিশ্বনেতারাও এগিয়ে এসে শান্তি সনদে স্বাক্ষর করতে থাকেন। ডব্লিউইএফের বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে শতাধিক দেশের নেতা ও শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দাভোসে অবস্থান করছেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ‘অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সনদ এখন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। আর শান্তি পর্ষদ এখন একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।’
যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্প্রতি শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে যোগ দেয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানানো হয়। এতে স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে বলে জানা গেছে। ।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ, ইসরাইল, পাকিস্তানসহ প্রায় ৩৫টি দেশ শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, আল জাজিরা বলছে, মনে হচ্ছে বোর্ড, যার ১১-পৃষ্ঠার সনদে একবারও গাজার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তা প্রত্যাশা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তবে, ট্রাম্প বলেছেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য সংকট সমাধানেও কাজ করবে। যা সাধারণত জাতিসংঘ করে থাকে।
‘এই বোর্ডটি পুরোপুরি গঠন হয়ে গেলে, আমরা যা করতে চাই তা-ই করতে পারব।’ ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) মঞ্চে দাবি করেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে, শান্তি বোর্ড জাতিসংঘকে দুর্বল করে দেবে। কিন্তু অনুষ্ঠানে তার উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প এই উদ্বেগগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘসহ আরও অনেকের সাথে কাজ করবে।
মঞ্চে ট্রাম্পের সাথে যোগ দেন আর্জেন্টিনা, কাতার, আজারবাইজান, ইন্দোনেশিয়া, হাঙ্গেরি, মরক্কো, বাহরাইন, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবসহ ১৯টি দেশের নেতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সূত্র: আল জাজিরা
আইকে/টিএ