জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লন্ডনের ফতোয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামায়াতকে শিরক বা কুফর করার কথা বলছে বিএনপি নেতারা। ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারণেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উনি বিদেশে গিয়েছেন, লেখা-পড়া করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচুরেটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি উনিতো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন কে মুশরিক, কে কাফের। এটা তার অধিকার নেই। এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান যে বিষয়গুলো মীমাংসা করে গেছেন, এখন সেই বিষয়গুলো সামনে এনে নতুন করে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তারা দাবি করে আমরা নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। এটা মিথ্যা প্রচারণা। তারা বলে, আমরা নাকি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি জামায়াত করে না, ধর্ম মেনে চলে। যারা ১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে, ধর্মীয় লেবাস পরে, তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে।
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের দোষারোপ করা হয়, যা ঠিক নয় জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের কেউ ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরাধ করেনি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জামায়াতের তখনকার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু জামায়াতের কেউ কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। জামায়াতের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ থাকলে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি জোট করেছিল কেন- তার জবাব দিয়ে তারপর ৭১ নিয়ে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই কিছু মহল জামায়াতের বিরোধিতা করছে। একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে কুফরি আখ্যা দেয়া হয়েছে, যা তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট কেনার জন্য দেয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না এবং ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। তার ভাষায়, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য।
তিনি দাবি করেন, ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। পরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি স্থানীয় একটি মহিলা সমাবেশে যোগ দেন।
এসএস/এসএন