জনপ্রিয় ভারতীয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান জাকির খান বড় পর্দায় কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এখন পরিচিত মুখ। হাসির পসরা সাজিয়ে যিনি লাখো মানুষকে আনন্দ দেন, সেই ‘সখত অউয়ান্ডা’ খ্যাত অভিনেতা নিজেই এবার জীবন নিয়ে বড়সড় এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হায়দরাবাদের এক শো-তে অংশ নিয়ে জাকির ঘোষণা করেছেন, তিনি কাজ থেকে দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছেন।
আর এই বিরতি এক-দুই মাসের নয়, বরং ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হায়দারাবাদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাকির খান নিজের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা স্বীকার করছেন।
দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সব কাজ শেষ করার পর আমি লম্বা বিরতি নেব। নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং ব্যক্তিগত কিছু বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন। এটি হতে পারে ২০২৮, ২০২৯ এমনকি ২০৩০ সাল পর্যন্ত।’
ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এখানে এসেছেন, তারা আমার হৃদয়ের খুব কাছের। আপনাদের ভালোবাসার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’
সাম্প্রতিক সময়ে গায়িকা নেহা কাক্করও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরতির ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট করেছিলেন। যদিও পরে তিনি সেটি মুছে ফেলেন। এ ছাড়া কমেডিয়ান জেমি লিভার এবং অভিনেতা রণিত রায়ের মতো তারকারাও ডিজিটাল ক্লান্তি বা 'বার্নআউট' থেকে বাঁচতে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন।
মনোবিদরা বলছেন, বর্তমান সময়ে সব সময় লাইমলাইটে থাকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত উপস্থিত থাকার মানসিক চাপ তারকাদের ভেতর শূন্যতা তৈরি করছে। একে ‘ডিজিটাল ফ্যাটিগ’ বলা হচ্ছে। ভারতে মানুষ এখন দিনে গড়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্নআউট কোনো সাধারণ শারীরিক ক্লান্তি নয়; এটি মানসিক অবসাদ যা থেকে মুক্তি পেতে কয়েক দিনের ছুটি যথেষ্ট নয়।
জাকির খানের মতো তারকারা যখন নিজেদের ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা প্রমাণ করে যে মানসিক সুস্থতা খ্যাতির চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জাকির খানের এই ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভক্তরা তার সুস্থতা কামনা করলেও, প্রিয় কমেডিয়ানকে দীর্ঘ কয়েক বছর মিস করবেন বলে মন খারাপ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এমআর/টিএ