রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন অধ্যাদেশে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে এ কর্তৃপক্ষ গঠন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির বোর্ড গঠনে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেখানে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বিধি ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক অধ্যাদেশটি প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। এতে রাজউকের আওতাভুক্ত এলাকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলার আওতাধীন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার আওতাধীন এলাকা, পাশাপাশি সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজউক বোর্ডের সভাপতি হবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা। একই মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত রাজধানীর বাইরের নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত একজন অধ্যাপক, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ও একজন স্বাধীন স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হবে রাজউক বোর্ড।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাজউক বোর্ডের প্রধান কাজ হবে পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও সাম্যভিত্তিক নগরায়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে রাজউক প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়ন করা।
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা লঙ্ঘনের দণ্ড সম্পর্কে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি কৌশলগত পরিকল্পনা বা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত কোনো ভূমি ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর দায়ে দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধার বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমবার দুই বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এরপর প্রতিবার একই অপরাধ সংঘটিত করলে অনধিক দুই বছর জেল বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
রাজউকের নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় নকশাবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে স্থাপনা নির্মাণকারীকে অনধিক দুই বছরের জেল বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা জেনেশুনে দায়িত্ব পালন না করার কারণে যদি এ অধ্যাদেশে উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটিত করেন কিংবা অপরাধ করার সুযোগ করে দেন, তাহলে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারী অনধিক দুই বছরের জেল বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এবি/টিকে