আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ এমন সিদ্ধান্তের দিকেই এগোচ্ছে পরিস্থিতি। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করলেও, সূচি পরিবর্তনে রাজি হয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ফলে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের, যা বিসিবির জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৩০ কোটি টাকা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং চলতি আর্থিক বছরের অন্যান্য বাণিজ্যিক আয় হারাতে পারে বিসিবি। এতে বোর্ডের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিসিবি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপের সূচিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা হবে না এবং বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিসিবিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দিয়েছিল আইসিসি।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির দেওয়া নিরাপত্তা মূল্যায়ন বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সম্ভাবনাই এখন বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড বিকল্প দল হিসেবে সুযোগ পেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের যোগাযোগ প্রধান চার্লস প্যাটারসন পিটিআইকে বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির টানাপোড়েন শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, আর্থিক দিক থেকেও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে।
এবি/টিএ