চলচ্চিত্রে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মানেই সাহস আর সংযমের এক কঠিন পরীক্ষা। পর্দায় যতটাই স্বাভাবিক মনে হোক, ক্যামেরার আড়ালে অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে অস্বস্তি, ভয় আর মানসিক চাপ। প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের সঙ্গে একটি এমনই সংবেদনশীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত।
চলচ্চিত্রটির গল্পে ইরফান ও দিব্যার চরিত্র ছিল নিঃসন্তান এক দম্পতি। সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণা, হতাশা আর কান্নার মধ্যেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটি দৃশ্য ছিল ছবিতে। দিব্যার কথায়, দৃশ্যটি ছিল আবেগে ভরা, ভীষণ সংবেদনশীল। তবে সেই দৃশ্যে অভিনয় করার আগে তিনি নিজেই ভয়ে কাঁপছিলেন। কান্নায় ভেঙে পড়া দুই মানুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত পর্দায় তুলে ধরার ভাবনাই তাঁকে মানসিকভাবে বিচলিত করে তুলেছিল।
এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন খ্যাতিমান নির্মাতা ডেভিড লিঞ্চের কন্যা জেনিভার লিঞ্চ। ফলে শুটিং সেটে উপস্থিত ছিলেন দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে বড় একটি দল। দিব্যা জানান, সেটের অর্ধেকের বেশি মানুষ ছিলেন বিদেশি। সবাই দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলেন, যা তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ পরিচালক বা সমন্বয়কের চল ছিল না। ফলে শিল্পীদের নিজেদের ভয়, সংকোচ আর মানসিক চাপ সামলিয়েই কাজটি করতে হতো।
দৃশ্যের শুটিং শুরু হওয়ার ঠিক আগে দিব্যা জানতে চেয়েছিলেন, ইরফান কোথায় আছেন। পরিচালকের কাছ থেকে উত্তর আসে, তিনি ছাদে একা বসে আছেন এবং তিনিও নাকি সমানভাবে ভয় পাচ্ছেন। এই কথাই যেন দিব্যাকে কিছুটা সাহস জুগিয়েছিল। দুজনেই ভয় কাটিয়ে নিজেদের চরিত্রে ডুবে যান। শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যটি হয়ে ওঠে ছবির অন্যতম শক্তিশালী মুহূর্ত।
পরে আবার এক ছবিতে ইরফান ও দিব্যা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, কয়েক বছরের মধ্যেই চলে যান ইরফান খান। সহশিল্পী হিসেবে তাঁর পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা আর মানুষ হিসেবে তাঁর সততার স্মৃতি আজও দিব্যার কণ্ঠে স্পষ্ট আবেগ হয়ে ফিরে আসে। সেই একটি দৃশ্যের কথা বলতে গিয়েই যেন আবারও জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রয়াত অভিনেতার মানবিক মুখ।
পিআর/টিএ