ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অমিত হাসান বর্তমানে আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলাদেশে খুব একটা সময় না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এই অভিনেতা। ২০২৩ সালে অমিত হাসানের পরিবার আমেরিকার গ্রীনকার্ড পান। শুধু তাই নয় চলচ্চিত্রের আরেক চিত্রনায়ক শাকিব খানও ২০২২ সালে গ্রিনকার্ডের অনুমোদন পান নিশ্চিত করেন অমিত হাসান।
ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক দুই শহরের মাঝেই এখন চলছে অমিত হাসানের জীবন-ব্যস্ততা। শুটিংয়ের প্রয়োজন হলেই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ভক্তদের মতে, ঢালিউডের এই জনপ্রিয় নায়কের জীবনে এটি এক নতুন অধ্যায়। কেননা আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও তিনি দেশে সিনেমার শুটিং থাকলেই চলে আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রথমবার আমেরিকায় যান অমিত হাসান। এরপর ২০১৭ সালে স্ত্রী সন্তানসহ অবকাশের জন্য আবারও যান। পরবর্তীতে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য পরিবারসহ বসবাসের পরিকল্পনা নেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করেন অমিত হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালে স্পেশাল ক্যাটাগরি (ইবি-ওয়ান) ভিসার আওতায় সফলভাবে গ্রিনকার্ডের অনুমোদন পান তারা। একই সময়ে অমিত হাসান, তার স্ত্রী ও কন্যা সন্তান এই স্থায়ী বসবাসের অধিকার লাভ করেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অমিত হাসান দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, ‘চলচ্চিত্র নায়কদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমি ও শাকিব দুইজনেই আমেরিকায় বসবাসের জন্য গ্রিনকার্ডের অনুমোদন পাই। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ও আমেরিকায় যাওয়া আসা আমার। আমার শুটিংয়ের সময় আমি দেশে আসি, আবার শুটিংয়ের কাজ না থাকলে আবার আমেরিকায় আসি। কারণ এখানে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা আছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে অনেকেই যাচাই বাছাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করছে। দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে সাংবাদিকতা করতে না পারলে সেটিকে সাংবাদিকতা বলা যায় না।’
যারা গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে অমিত হাসান বলেন, ‘চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার আগে আমি গাড়ি চালাই। আমার নিজের গাড়ি আছে। আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য আমেরিকায় গাড়ি চালানো শিখছি এটা ভুয়া তথ্য। এসব ভুয়া তথ্য দিয়ে আমার ভক্তদের বিভ্রান্ত করবেন না।’
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা অমিত হাসান এখনো নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। দেশের বাইরেও অবস্থান করলেও দেশীয় সিনেমার সঙ্গে তার সংযোগ অব্যাহত রয়েছে।
পিআর/টিকে