সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) এই বৈঠকে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রেমলিন চাইছে সিরিয়ায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। ২০২৪ সালে আল-শারার বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে রাশিয়ার মিত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত অক্টোবরে পুতিন ও আল-শারার প্রথম বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দুই নেতা সমঝোতামূলক মনোভাব দেখান।
তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও আসাদ ও তার স্ত্রীকে রাশিয়ায় আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। আল-শারা বারবার তাদের প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, আল-শারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত সম্মানিত নেতা বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।
আসাদ সরকারের পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব কমে গেছে। এই অবস্থায় পুতিন অঞ্চলটিতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে আগ্রহী। সম্প্রতি রাশিয়া সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত কামিশলি বিমানবন্দর থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে। ফলে এখন দেশটিতে রাশিয়ার হাতে রয়েছে শুধু ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হিমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে এগুলোই রাশিয়ার একমাত্র সামরিক ঘাঁটি।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। ১৪ বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় রাশিয়া ছিল আসাদ সরকারের প্রধান মিত্র। সে সময় আল-শারার নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাশিয়া ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
তবে আসাদ সরকারের পতন মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আসাদের পতনকে স্বাগত জানায় এবং আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।
সূত্র: এএফপি
আইকে/টিএ