পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করেছেন। এ ঘটনা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে কিম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নবম কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এটি ২০২১ সালের পর প্রথম এমন দলীয় সম্মেলন। কিম সতর্ক করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ তার শত্রুদের জন্য ‘চরম মানসিক যন্ত্রণা’ বয়ে আনবে। সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিকে ঘিরে পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবারের পরীক্ষায় বড় ক্যালিবারের মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এ ঘটনাকে কিম ‘কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেসিএনএ জানিয়েছেন, এই অস্ত্র ব্যবস্থা ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম’।
উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩৫৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এগুলো জাপান সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে জিজি প্রেস জানিয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বাইরে গিয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পিয়ংইয়ংয়ের উত্তর থেকে জাপান সাগরের দিকে একাধিক স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। কিম বলেন, এই পরীক্ষার ফলাফল ও তাৎপর্য আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাত উসকে দিতে চাওয়া শক্তিগুলোর জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণা ও গুরুতর হুমকির উৎস হয়ে থাকবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষকদের মতে, কিম যে ‘স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশিত ফ্লাইট সিস্টেমের’ কথা বলেছেন, তা নতুন ধরনের ন্যাভিগেশন প্রযুক্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। এগুলো জিপিএস জ্যামিং এড়িয়ে চলতে সক্ষম।
পরীক্ষা চলাকালে কিমের সঙ্গে তার কন্যা কিম জু অ্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম উপবিভাগ পরিচালক কিম জং-সিক এবং মিসাইল প্রশাসনের প্রধান জাং চাং-হাকেও সেখানে দেখা গেছে।
আইকে/টিএ