অভিনয় জীবনের তিন দশক পূর্ণ করলেন রানী মুখার্জি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার পশ্চিমবঙ্গ গভর্নস অ্যাওয়ার্ড ‘বন্দে মাতরম’ সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন তিনি। রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির মধ্যে অন্যতম এই পুরস্কার।
গত বছর ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন রানী। সেই সাফল্যের মধ্যেই আরও এক গৌরবময় স্বীকৃতি যোগ হলো তার ক্যারিয়ারে।
কলকাতায় জন্ম রানী মুখার্জির। অভিনয়ের কারণে বহু বছর ধরে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হলেও জন্মস্থান কলকাতার সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় টান। তাই পশ্চিমবঙ্গের গর্ভনরের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়া তার কাছে যেন শিকড়ে ফিরে আসার অনুভূতি।
এই স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত রানী বলেন, ‘এটি আমার কাছে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের মতো। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাওয়া এই সম্মান আমার শিকড়ের উষ্ণ আলিঙ্গনের মতো। যদিও একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার যাত্রা মূলত হিন্দি ছবির মাধ্যমে শুরু তবে আমার শিকড় গভীরভাবে বাংলার মাটিতেই ছিল।’
পশ্চিমবঙ্গ গভর্নস অ্যাওয়ার্ড ‘বন্দে মাতরম’ সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন রানী মুখার্জি
বাঙালি সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা নিয়ে রানী জানান, ‘বাবা-মা এবং বাঙালি সংস্কৃতিই তাকে শিখিয়েছে যে সত্য প্রকাশে উচ্চস্বরে কথা বলার প্রয়োজন নেই। তারা আমাকে অনুগ্রহ, আত্মসম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে নিজের অবস্থানে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানগুলির একটিতে আমাকে ভূষিত করার জন্য আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ।’
বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে রানী মুখার্জি এক অনন্য নাম। ক্যারিয়ারের প্রথম দশকে একাধিক ছবিতে বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও ২০০৫ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালীর পরিচালনায় ‘ব্ল্যাক’ ছবিটি তার অভিনয়জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। এই ছবির মাধ্যমেই প্রথম পরিণত অভিনেত্রীর তকমা পায় রানি। এরপর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে দর্শকের মন জয় করেছেন রানি।
এমকে/টিএ