ঢাকার কেরানীগঞ্জে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) এক নেতাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নেতা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. জিয়া (২৮) বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সদস্য সচিব। তিনি অভিযোগ করেন, তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী জাহাঙ্গীর (৫৫) তাকে এলাকায় প্রবেশ করলেই গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মো. জিয়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে জিডিটি করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, আবদুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা গাজী জাহাঙ্গীর বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডে তিনি বাধা দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতি বিরোধপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে আসছেন।
জিডিতে আরো বলা হয়, অভিযুক্ত গাজী জাহাঙ্গীর প্রায়ই জিয়াকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতে পারগেন্ডারিয়া এলাকায় নিজ বাসায় অবস্থানকালে অভিযুক্ত তার মোবাইল ফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অপকর্মে বাধা দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সদস্য সচিব জুয়েল বলেন, গাজী জাহাঙ্গীর এলাকায় একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তিনি নিয়মিত রাতের আঁধারে মাটি কাটেন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। মানুষের জায়গা দখল, কৃষিজমি ভরাট ও মাটি চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই মো. জিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবো বলে প্রচার করলে গাজী জাহাঙ্গীর আমার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়েছেন। অভিযুক্তের ছেলে সায়মনও ফোনে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বর্তমানে আমার বাড়ি আব্দুলাহপুরের করেরগাও এলাকায় যেতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গাজী জাহাঙ্গীর একসময় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে করেরগাঁও এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর অর্থের বিনিময়ে তিনি তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ বাগিয়ে নেন।
অভিযোগের বিষয়ে গাজী জাহাঙ্গীর বলেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।