বিএনপির লোকজনের ইন্ধনেই সেই বিডিটুডে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিডিটুডের কর্ণধার এবং একজন শিক্ষক-গবেষক এই অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্ট্যাটাসে বলা হয়, ২০১৬ সালের পর হাসিনা সরকারের নির্দেশে আদালত যখন তারেক রহমানের বক্তব্য ও সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখন বাংলাদেশের মূলধারার কোনো মিডিয়া তার খবর ছাপানোর সাহস পায়নি। সেই চরম দুঃসময়ে বিডিটুডেই ছিল তারেক রহমানের খবরের অন্যতম ভরসা।
তারেক রহমানের বর্তমান প্রেস সচিব সালেহ শিবলী তখন লন্ডন থেকে নিয়মিত ইমেইল পাঠাতেন। স্ট্যাটাসে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করা হয়, শিবলী সাহেব জানতেন অন্য কেউ নিউজ করবে না, তাই ব্যক্তিগতভাবে শুধু বিডিটুডে-কেই সেই মেইল পাঠানো হতো।
স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সময়ে সাহসের সাথে সংবাদ প্রচারের জন্য তারেক রহমান বিডিটুডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি সালেহ শিবলী বিডিটুডে সম্পাদকের সাথে তারেক রহমানের দেখা করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতে আগ্রহ না থাকায় সম্পাদক তখন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি সংশ্লিষ্টরাই গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দিয়ে বিডিটুডে পোর্টালটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে সম্পাদক প্রশ্ন তুলেছেন- দুঃসময়ের সাহসিকতার প্রতিদান কি এভাবেই দিতে হয়?
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই কি তবে ভিন্নমত বা স্বাধীন মিডিয়া দমনে লিপ্ত হচ্ছে?
মোকাররম হাসানের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। এর মধ্যে একজন কমেন্ট করেছেন, বিএনপির লোকজন লেলিয়ে দিয়েছে তার প্রমান কই? প্রমান সহ পোস্ট করেন। ন্যারেটিভ তৈরী করে মিথ্যে বয়ান অনলাইনে ছাড়েন না।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যদি এই অবস্থা হয়,তাহলে সামনের সরকারের সময় কি হবে অনুমান করেন।
সর্বশেষ এক স্ট্যাটাসে পোর্টালটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাইটটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নেপথ্য থেকে বিশেষ শর্ত বা ‘মুচলেকা’ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অগণতান্ত্রিক চক্র এবং তাদের সহযোগীরা বিডিটুডেকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে- "কী নিউজ করা যাবে আর কী যাবে না", এই শর্ত মেনে নিলেই সাইট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু বিডিটুডে কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো প্রকার চাপের মুখে নতি স্বীকার করে তারা সাংবাদিকতা করবে না।
পিএ/টিএ