কানাডিয়ান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও’হারা মারা গেছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে ৭১ বছর বয়স হয়েছিল। মৃত্যুকালে স্বামী বো ওয়েলচ এবং দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন এ অভিনেত্রী।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনেত্রীর ম্যানেজার মার্ক গুরভিটজের অফিসের একজন প্রতিনিধি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ক্যাথরিন। এ অবস্থায় শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে তার।
টরন্টোতে জন্ম নেওয়া ও’হারা ১৯৭০ এর দশকে টরন্টোর সেকেন্ড সিটি থিয়েটারে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে সেই অভিনয়দলের জন্য অডিশন দিয়ে সুযোগ পান।
এরপর তিনি জনপ্রিয় স্কেচ কমেডি শো ‘সেকেন্ড সিটি টেলিভিশন’ এ অভিনয় করে নিজের কমেডি দক্ষতা আরও শাণিত করেন। সেখানে তিনি ইউজিন লেভি ও প্রয়াত জন ক্যান্ডির মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেন।
ও’হারা তার ক্যারিয়ারে একাধিক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। ১৯৮৮ সালের ‘বিটলজুস’ সিনেমা এবং জনপ্রিয় ছুটির দিনের ক্লাসিক ‘হোম অ্যালোন’ এ মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯৭ সালের ‘হোপ’ সিনেমা সহ বেশ কিছু নাটকীয় চরিত্রেও অভিনয় করেছেন ক্যাথরিন ও’হারা।
এ তারকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য অ্যানিমেটেড প্রোজেক্টে কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য নাইটমেয়ার বিফোর ক্রিসমাস’, ‘দ্য ওয়াইল্ড রোবট’, ‘এলিমেন্টাল’ এবং ‘ফ্রাঙ্কেনউইনি’।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেরা কমেডি অভিনেত্রীর জন্য এমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি। কানাডীয় কমেডি সিরিজ ‘শিটস ক্রিক’ এ দুর্দান্ত অভিনয় তাকে এই জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। তিনি দ্য‘ লাস্ট অব আস’ এ একজন থেরাপিস্ট এবং ‘দ্য স্টুডিও’ তে একজন বরখাস্ত সিনেমা নির্বাহী চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতে তিনি প্যাটি লি চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি চলতি বছর পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
তার মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী থেকে শুরু করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শোক প্রকাশ করেছেন। মার্ক কার্নি তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে ক্যাথরিন কানাডীয় কমেডির ইতিহাসে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। কানাডা এক কিংবদন্তিকে হারিয়েছে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে হাসিয়েছেন।’
কেএন/টিএ