জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চামড়া শিল্পে বিশ্বে নজির স্থাপন করবে বাংলাদেশ: জামায়াত আমির

জামায়াত ক্ষমতায় গেল চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ নজির স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এই শিল্পকে রক্ষায় ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বছরের পর বছর দেশের বাহিরে ছিল তারাই এখন আমাদের গুপ্ত আর সুপ্ত বলছে। অথচ তাদের দেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর কোথাও দেখেনি। আমরা কারাগারে ছিলাম, গুম-খুনের শিকার হয়েছি। কারাগারে থাকলে যদি কেউ গুপ্ত হয় তবে আমরা গুপ্ত। কিন্তু আমি কিংবা আমার কর্মীরা দেশ ছেড়ে কেউ পালিয়ে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট বিপ্লব না হলে যাদের এই জাতি জীবনেও চোখে দেখতো না তারা এখন আমাদের গুপ্ত বলছে! অথচ আমরা শত জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও জনগণের পাশেই ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের নেতা শহীদ মীর কাসেম আলী আমেরিকা থেকে দেশে চলে এসেছেন। তিনি দেশে আসার আগে তার বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুরোধ করেছেন আপনি দেশে আসিয়েন না। আসলে অন্য নেতাদের মতো আপনাকেও জেলে নেওয়া হতে পারে, ফাঁসি দিতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাই আমার দেশে যেতে ভয় নাই। তিনি দেশে এসেছেন এবং আওয়ামী লীগের সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিচারের নামে অবিচারের শিকার হয়ে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন তবুও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কিংবা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপোষ করেনি।

জামায়াত আমির বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরপর সেই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরিচালিত করে দেশপ্রেমিক ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে খুন করে। তার পরবর্তীতে বিচারের নামে অবিচার করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে হাজার-হাজার আলেমকে হত্যা করেছে। বিগত ১৫ বছরে তারা দেশের কোটি-কোটি মানুষের ওপর জুলুম করেছে। জুলুমের শিকার জাতি আশাহত হয়েছে আওয়ামী লীগ হয়তো ২০৪১ সালের আগে আর ক্ষমতা ছাড়বে না। কিন্তু আল্লাহ তার পরিকল্পনায় এদেশের ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে আল্লাহ তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে আমাদের শত-শত কর্মীকে খুন-গুম করেছে। আয়না ঘরে বন্দী রেখে জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের জুলুমে পুরো বাংলাদেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। আমরা বলেছিলাম, আমাদের ওপর জুলুমের প্রতিশোধ আমরা কারো থেকে নেবো না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি বিচার চাইলে আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার পেতে তাকে সহযোগিতা করা হবে। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা কোনো মামলাবাজি করিনি, কোন চাঁদাবাজি করিনি, কারো বাড়িঘর দখল দেই নাই। বরং আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি তোমরা স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকায় কাজ করো। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন থানায় তারা কাজ করতে নিরাপদ বোধ করছেন না, আমরা বলেছি আপনারা থানায় কাজ করুন বাহিরে আমাদের কর্মীরা নিরাপত্তায় পাহারাদারের ভূমিকায় থাকবে। আমরা আমাদের সেই কথা রেখেছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি জামায়াতে ইসলামীর জন্য ভোট চাইতে আসিনি, আমি এসেছি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যা জানতে এবং সমস্যা সমাধানে আমাদের করণীয় ঠিক করতে। আমরা চাই মানুষকে গোলামীর হাত থেকে মুক্ত করে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে।

তিনি বলেন, যারা ভোট চাওয়ার কারণে মায়েদের বুকে লাথি দিয়েছে, যারা মায়েদের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারাই আমার ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে মায়েদের জন্য দরদ দেখাচ্ছে! এদিকে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে অন্যদিকে মায়েদরে গায়ে হাত তোলা হচ্ছে, মায়েদের কোপানো হচ্ছে!

হুঁশিয়ারি করে জামায়াত আমির বলেন, খবরদার সতর্ক হও, মায়েদের কাছে ক্ষমা চাও, আল্লাহ কাছে ক্ষমা চাও। নতুবা মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষায় আমরা চুপ করে থাকবো না। চব্বিশের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বোনদের গায়ে হাত তোলার পর জাতি আর চুপ করে বসে থাকতে পারেনি। আবারও যদি কেউ মা-বোনের গায়ে হাত তুলে তবে জাতি আবার ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে উল্লেখ করে আমির জামায়াত বলেন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ। পচা রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রথম ভোট গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। তারপর সরকার গঠনের জন্য আরেকটি ভোট দিতে হবে। সেই ভোট হবে ন্যায়-ইনসাফের এক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভোট।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের যুব সমাজ বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তারা ন্যায় বিচার চায়, তারা অধিকার চায়, তারা মানবিক বাংলাদেশ চায়। কিন্তু যারা তাদেরকে বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তাদের যুব সমাজকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো কর্মসূচি নেই। জামায়াতে ইসলামীর যুব সমাজকে নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। সেজন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে যুব সমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

ঢাকা-১০ আসনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান খুব কঠিন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবলমাত্র সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকার সকল সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান সম্ভব। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে তিনি ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকার জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-১০ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ঈমানের দাবি, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হচ্ছে দেশপ্রেমের দাবি। আমাদের জুলাই যোদ্ধারা সেই দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের দায় শোধ করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সমাজে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। একধরনের নেতা বলে তারা এটা করবে, ওটা করবে। কিন্তু তাদের কথা আর কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। আরেক ধরনের নেতা আছে যারা কাজ করে এবং আরও কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছর আমরা যাদেরকে আমাদের নেতা বানিয়েছি, যাদেরকে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি তারা আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না। অতীতে যারা আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে তারা এখন আবার নতুন করে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। কার্ডের নামে জনগণকে আবারও ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একসময় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে আসার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশের আসার ১৩ দিনের মধ্যে জিয়াউর রহমানকেই শহীদ করে দিয়েছে। এখন আবার লন্ডন থেকে এক নতুন মুফতি এসেছে। যিনি দেশে আসার আগে ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে এসেছেন। তিনি এদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানাতে চায়। এদেশের মানুষ আর কাউকে বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ বিস্তার করতে দেবে না, ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেবে না।

রাশেদ প্রধান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নতুন জালেমকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিতে ঢাকা-১০ আসনের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

টিজে/টিকে 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আজ আংশিক মেঘলা থাকবে ঢাকার আকাশ Feb 01, 2026
img
এনসিপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে: আসিফ মাহমুদ Feb 01, 2026
img
অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে স্পিনারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক Feb 01, 2026
img
টাকার খেলায় নয়, জনতার ভোটেই জয় চাই: জোনায়েদ সাকি Feb 01, 2026
img
ট্রাম্পের গোপন উদ্দেশ্য জেনে গেছে ইরান Feb 01, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও শুরু আংশিক শাটডাউন Feb 01, 2026
img

এপস্টেইন নথির তথ্য

‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন-গেয়েছেন মোদি’ Feb 01, 2026
img
বড় জয়ে লিগ টেবিলে ম্যান সিটির চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে আর্সেনাল Feb 01, 2026
img
বাবা অবশ্যই জিনিয়াস ছিলেন, তবে আমিও মন্দ নই: গাবু Feb 01, 2026
img
আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করা হয়েছে : জামায়াত Feb 01, 2026
img
ওয়েস্ট ইন্ডিজের থেকে বেশি রান করেও অদ্ভুত নিয়মে হার দক্ষিণ আফ্রিকার Feb 01, 2026
img
এবার রাম চরণ ও উপাসনার ঘরে যমজ সন্তানের আগমন Feb 01, 2026
img
প্রার্থী এজেন্টদের উপস্থিতিতেই পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিং : চট্টগ্রাম ডিসি Feb 01, 2026
img
একিটিকের জোড়া গোলে নিউক্যাসলকে হারিয়ে দারুণ জয় লিভারপুলের Feb 01, 2026
img
সোমবার খুলনা যাচ্ছেন তারেক রহমান Feb 01, 2026
img
ঝিনাইদহে যৌথবাহিনীর অভিযানে ১২ ককটেল উদ্ধার Feb 01, 2026
img
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর Feb 01, 2026
img
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বিএনপির: ডা. রফিক Feb 01, 2026
img
কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ Feb 01, 2026
img
হান্নান মাসউদের পথসভায় হামলায় আহত ৩ Feb 01, 2026