ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪০৭ দশমিক ৮২ কোটি টাকা।
‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে’র (টিএইবি) একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
টিএইবি গত ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন— এই পাঁচটি নির্বাচনের নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে টিএইবি।
প্রতিবেদনে পাঁচটি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দল ও প্রার্থীর সংখ্যা, নির্বাচন-ভিত্তিক ইসলামী ও অন্যান্য দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা, নারী ও পুরুষ প্রার্থীর অনুপাত, প্রার্থীদের বাৎসরিক আয়, অতীতে মামলা ছিলো এমন প্রার্থীর সংখ্যা, শীর্ষ দলগুলোর ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থীর তালিকাসহ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে টিএইবি’র হলফনামা-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সকল হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে পিডিএফ আকারে সংগ্রহ করা হয়।
সংগৃহীত প্রায় ২৪০০ পিডিএফ হলফনামার যাবতীয় তথ্য KoboToolbox দিয়ে তৈরি ডেটা ফর্ম এর মাধ্যমে একদল প্রশিক্ষিত ডেটা অ্যাসিসট্যান্ট সম্পূর্নভাবে ডিজিটাইজড করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
পরবর্তীতে ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ ইন্টারঅ্যাক্টিভ ড্যাশবোর্ডে থাকা নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক তথ্যের সাথে বিশ্লেষণ কাঠামো অনুযায়ী তুলনা করা হয়।
ডেটা প্রক্রিয়াকরণে পাইথন ও পাওয়ার কোয়েরি ব্যবহার; ডেটা বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনায় পাওয়ার বিআই ও ড্যাক্সের ব্যবহার করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় পাঁচটি নির্বাচনের আট হাজারের বেশি হলফনামার দেওয়া আটটি তথ্যের বহুমাত্রিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ ড্যাশবোর্ডটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
টিএইবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থী ৮৭ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৩ শতাংশ। টিএইবি বলছে, বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধীতায় নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। এবার নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। পুরুষ প্রার্থী ৯৫.৯৮ শতাংশ এবং নারী প্রার্থী মাত্র ৪.০২ শতাংশ।
প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে টিএইবি আরও জানান, তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাৎসরিক আয় করেন প্রায় ২৮ ভাগের কিছু বেশি প্রার্থী। ৩৫ লাখ টাকার বেশি আয় করেন ১৬ শতাংশের বেশি প্রার্থী। অতীতে মামলা ছিলো ৭৪০ জন (৩১.৬৪%) প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
ইউটি/টিএ