রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে আসতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের নরম ভাষা আর কঠোর বাস্তবতা দুই বিপরীত স্রোত একই সঙ্গে প্রবল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যু, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মব সহিংসতা, ভীতি ও অনিশ্চয়তা- এসবের খবর আরো ঘন হচ্ছে।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে জিল্লুর এসব কথা বলেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিভাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকেও তালিকাভুক্ত করছে।
বিদেশ যাত্রা, পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আমাদের কূটনীতির সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই তিনটি ধারাকে আলাদা করে দেখলে ভুল হবে। কারণ এগুলো একসঙ্গে মিলে বলে দেয় নির্বাচনী বছরে বাংলাদেশ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট রাজনীতির মুখোমুখী নয়, বরং রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতার ভাষা, অর্থনৈতিক নৈতিকতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার এক পরীক্ষার মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
জিল্লুর বলেন, জামায়েতের সাম্প্রতিক বার্তায় যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ঘোরাফেরা করছে তা হলো- এটা কি মতাদর্শগত বিবর্তন নাকি কৌশলগত ইমেজ রিপেয়ার? ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াতের ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বহুদিন ধরেই এক ধরনের টানাপড়েনে ছিল।
২০১২ সালে দলীয় গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা হয়েছিল। এটা নতুন নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরে থেকে রাজনীতি করার প্রয়োজন থেকেই বাংলাদেশের অনেক দলই সময়ে সময়ে ভাষা বদলেছে, লক্ষ্য বদলেছে, শব্দ বদলেছে।
জিল্লুর আরো বলেন, যে বিষয়টি আলাদা করে নজরে পড়ছে তা হলো, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রকাশ্য সংলাপ, তাদের প্রার্থী দেওয়া এবং আইন কাঠামোর ভেতরে থাকার বার্তা। এসব নির্বাচনের আগে একটি বড় জনমতের মিসপারসেপশন কাটাতে কাজে লাগতে পারে বলে জামায়াত মনে করেন।
একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, বাংলাদেশের সমাজ ধর্মপ্রাণ হলো জনজীবনের বড় অংশ চায় নিরাপত্তা স্থিতি, কাজের সুযোগ, ন্যায়বিচার-কেবল রাজনীতি নয়।
আরআই/টিকে