টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে খেলবে না; পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না হারভাজান সিং। ভারতের সাবেক এই অফ স্পিনারের মতে, ভারত-ম্যাচ বর্জন করার বিষয়টি সামনে এনে নাটক করছে প্রতিবেশিরা।
সাহস থাকলে পাকিস্তানকে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি।
পুরো বিশ্বকাপই বয়কট করতে পারে পাকিস্তান, বেশ কয়েকদিন ধরে এমন গুঞ্জন ছিল। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত রোববার দলকে বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয় পাকিস্তান সরকার। তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামবে না তারা।
এরপর থেকে ক্রিকেট আঙিনায় চলছে তোলপাড়। আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, পক্ষে-বিপক্ষে আসছে প্রতিক্রিয়া। জল এতদূর গড়ানোর পেছনে আইসিসিকে দায়ী করছেন অনেকে।
ঘোলাটে এই পরিস্থিতিতে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন হারভাজানও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকার নাটক করছে পাকিস্তান।
“এই সিদ্ধান্ত থেকে কী লাভ হবে (পাকিস্তানের)? এটা শুধু দম্ভ দেখানোর জন্য। যদি সত্যিই তারা মনে করে, এরকম কিছু করতে পারবে, তাহলে অনড় থাকুক। দেখা যাক, সত্যিই সাহস আছে কিনা। এটা একটা সম্পূর্ণ নাটক যা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, এটা বোঝাতে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। এতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু তাদের দেশের মানুষ যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি দেখতে চায়, তাদের সম্পর্কে কী ভেবেছে তারা?”
ঝামেলার শুরু গত মাসের শুরু থেকে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপের মুখে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এরপর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ।
আইসিসির সঙ্গে একাধিক সভাও করে বিসিবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরানোর দাবি নাকচ করে দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের টিকেট দেয় আইসিসি।
পুরো এই সময়টায় বাংলাদেশের পাশে ছিল পাকিস্তান। আইসিসির সভায় বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র ভোট দেয় তারাই। ওই সময়ই আইসিসির দ্বিচারিতার নিয়ে অভিযোগ তোলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
সমস্যাটা বাংলাদেশের সঙ্গে, পাকিস্তান কেন নিজেদের টেনে এনেছে কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না হারভাজান। পাকিস্তানিদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
“এই ম্যাচটি একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার কথা ছিল, আর তাদের সাথে কোনো সমস্যা ছিল না। সম্প্রতি যখন যুদ্ধ হয়েছিল, তখনও তারা এশিয়া কাপে খেলেছিল। ট্রফি নিয়ে নাটকীয়তা ছিল, তবে ম্যাচগুলো হয়েছিল, কারণ তারা সেই রাজস্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল না। তোমরা যদি এত দেশপ্রেমিক হও, তখন তোমাদের দেশপ্রেম কোথায় ছিল? তাহলে তো বলতে হয়, নিজ দেশের প্রতি তোমাদের কোনো অনুভূতি ছিল না, কিন্তু এখন অন্য কোনো দেশের পাশে দাঁড়াতে চাইছ।”
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। টুর্নামেন্টে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ম্যাচটি হওয়ার কথা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি।
এমআই/টিএ