ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অর্ধেক ভোটার খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন ‘ম্যানিপুলেট’ হওয়ার আশঙ্কায় খুঁজে না পাওয়া ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া দাবি জানিয়েছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এত সংখ্যক ভোটার খুঁজে না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আর এতে নির্বাচন ফলাফল পাল্টে দেওয়ারও কোনো আশংকা নেই।
সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমটোয়েন্টিফোর.কম-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা আব্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচন কমিশনের আচরণে কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখেন কি না?
জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই। অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কোনো মতলব নিশ্চয়ই আছে। দুই লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে অর্ধেক ভোটার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এটা সন্দেহজনক। এই ভোটারগুলো কারা? যদি এসব ভোটার পাওয়া না যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে বলব তাদের ভোটার বাতিল করুন। এরা ফল পরিবর্তন করে দিতে পারে। নির্বাচন ম্যানিপুলেট হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, ভোটার খুঁজে না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকটা ভোটারের ঠিকানাসহ আমরা নিবন্ধন করে থাকি। তাই এ নিয়ে কোনো আশঙ্কার কিছু থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটারকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। এটা তাকেই করতে হবে।
এমনকি ভোটও চাইতে হবে।
এরপরও ভোটার খুঁজে না পাওয়ার কোনো কারণ আছে কি-না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ঢাকার বেশির ভাগ ভোটার ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়। কর্মের কারণে অনেকেই এখানে এসে বসবাস করেন। আর কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটারের এলাকাও পরিবর্তন হতে পারে৷ ভোটার তার এলাকা পরিবর্তন করতে পারে৷ এজন্য একটি আসনের ভোটার তালিকায় কারো নাম থাকা সত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেখানে নাও পাওয়া যেতে পারে।
ইসির ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল থানার ৮ থেকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ও রমনা থানার ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৮ জন, নারী ১ লাখ ১৮ হাজার ৭১১ জন ও হিজড়া ভোটার ছিল একজন।
গত দুই বছরে নতুন ভোটার ও স্থানান্তর কার্যক্রম শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন ও হিজড়া ভোটার ১ জন। অর্থাৎ দুই বছরে এই আসনে ভোটার বেড়েছে চার হাজার ৮২১ জন। এদিকে প্রবাসে চলে যাওয়ায় ও অন্যান্য কারণে এই আসনের ৮ হাজার ৯৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এ হিসেবে এই আসনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার মতো ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের অন্যান্য আসনের সঙ্গে এই আসনেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১০ জন ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল কবির, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান, কলম প্রতীকে জনতার দলের মো. গোলাম সরোয়ার, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদীপ কুমার সাহা, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার, মটরগাড়ি (কার) প্রতীকে বাংলাদেশ জাসদের এএফএম ইসমাইল চৌধুরী, কাঁচি প্রতীকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এএইচএম রাফিকুজ্জামান।
ইউটি/টিএ