ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ও অন্যতম সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরেই তার দল প্রথম শিরোপা জিতেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালে রোহিত শর্মা দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেন ভারতকে। আর মাত্র দু’দিন পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। যাকে কেন্দ্র করে নিজের উত্তরসূরীদের নিয়ে গড়া ভারতীয় দলের সামর্থ্য, সম্ভাবনা ও তাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন ধোনি।
ভারতকে সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর একটি উল্লেখ করে ধোনি বলেন, ‘২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর একটি। ভালো দল হতে যা যা দরকার, সবকিছুই এই দলে রয়েছে। বিশেষ করে এই ফরম্যাটে তাদের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তারা চাপের মধ্যে খেলেছে। দলে যারা যে ভূমিকা পালন করছেন, সেই পরিস্থিতিতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যস্ত।’
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আইসিসির মেগা ইভেন্টে ধোনির উদ্বেগের কারণ ‘শিশির’। যা রাতের ম্যাচে রান তাড়া করা দলের পক্ষে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, ‘যে বিষয়টা আমাকে চিন্তায় ফেলে তা হচ্ছে শিশির। আমি শিশির অপছন্দ করি। কারণ এটি অনেক কিছু বদলে দেয়। আমি যখন খেলতাম, তখনও শিশির আমাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিত, তখন টসটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।’
ভারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসন্ন বিশ্বকাপে নামলেও, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট অনিশ্চিত বলেও স্বীকার করলেন ধোনি। তার মতে– ‘নিরপেক্ষ কন্ডিশনে যদি আমরা সেরা কিছু দলের বিপক্ষে ১০টা ম্যাচ খেলি, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা জয়ী হব। সমস্যা তখনই হয়, যখন আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের দিনটা খারাপ যায় আর প্রতিপক্ষের কেউ একজন অসাধারণ একটি দিন কাটায়, টি-টোয়েন্টিতে এটা হতেই পারে। সেটা লিগপর্বে হোক বা নকআউট পর্বে, তখনই সব প্রার্থনার দরকার পড়ে। কেউ যেন চোট না পায়। যাদের যে ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, সবাই যেন সেটি ঠিকমতো পালন করে। যদি সেটা হয়, আমি নজর লাগাতে চাই না, কিন্তু এই দলটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর একটি।’
যথারীতি এই বিশ্ব আসরেও ভারত পড়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তান ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। ঠিক কী কারণে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
তবে আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্যের সিদ্ধান্তই এর নেপথ্য কারণ বলে উল্লেখ করেছিল দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজ। যদিও তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি।
পাকিস্তান কি তাহলে ৮ বছরের পুরোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিচ্ছে?
ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। বিকল্প হিসেবে যুক্ত করেছে স্কটল্যান্ডকে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির কথা জানিয়ে প্রতিবাদ জানায় পিসিবি। এমনকি তারা বিশ্বকাপ বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেরকম কিছু না করলেও, ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। ওই ম্যাচটি না হলে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসান হতে পারে আইসিসির।
টিজে/এসএন