ঢাকার রাজনৈতিক মহলে হঠাৎ এক নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল পাসপোর্ট) জমা দিচ্ছেন! সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যম- সবখানেই প্রশ্ন উঠছে: কেন এখন? ভোটের আগেই কি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি? নাকি এটা শুধু স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়ম? অর্থ উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা- কয়েকজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে বিভিন্ন ব্যাখ্যা।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট কী?
কূটনৈতিক পাসপোর্ট হলো লাল রঙের বিশেষ পাসপোর্ট, যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মতো ভিআইপিদের জন্যই সংরক্ষিত। এটি ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে বিশেষ সুবিধা দেয়- যেমন: ভিসা ছাড়া অনেক দেশে প্রবেশ, কূটনৈতিক ইমিউনিটি, দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ইত্যাদি। বাংলাদেশে এটি ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এবং সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।
কেন এত আলোচনা এখন?
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উপদেষ্টাদের এই পাসপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে পাড়া-মহল্লা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া–সবখানে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কৌতূহলী মহলের প্রশ্ন: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন এই দৌড়ঝাঁপ?
উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টি বেশ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সস্ত্রীক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন জানিয়ে বলেছেন, শারীরিক অসুস্থতা এবং আর বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় তিনি এটি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দিয়ে দিয়েছি। আমি আর যাব না কোথাও... আমার স্বাস্থ্যটা খুব ইসে না।’ তিনি আরও জানান, এটা নিয়মিত প্রক্রিয়া–আগের সরকারের সময়ও এমন হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ফজলুল কবিরও জমা দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিজে জমা না দিলেও কয়েকজনের পাসপোর্ট জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কিছু খবরকে ‘মিসইনফরমেশন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: নতুন তালিকায় ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
কেউ কেউ মনে করছেন, এটা বিদায়ের প্রস্তুতি- ভোটের আগেই ‘দেশ ছাড়ার’ ইঙ্গিত। আবার অনেকে বলছেন, এটা স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, কারণ পদ ছাড়ার পর কূটনৈতিক সুবিধা আর প্রযোজ্য থাকে না। সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এমন ঘটনা নতুন নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কূটনৈতিক পাসপোর্টের কোনো কার্যকারিতা থাকে না। বরং অনেক সময় পদের মেয়াদ শেষে এই পাসপোর্ট থাকলে ইমিগ্রেশন বা আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণেই হয়তো উপদেষ্টারা আগেভাগেই সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্ট পাওয়ার পথ প্রশস্ত করছেন।
ঘটনা যা-ই হোক, এই পাসপোর্ট সমর্পণ একটি বড় ইঙ্গিত বহন করে- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে এই ‘লাল পাসপোর্ট’ আর বর্তমান উপদেষ্টাদের সঙ্গী থাকবে না। রাজকীয় সুবিধা ছেড়ে সাধারণ নাগরিকের কাতারে ফিরে আসার এই প্রক্রিয়াটিই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় কৌতূহলে পরিণত হয়েছে।
এসকে/এসএন