ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) ও ধানের শীষের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কাপ পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীর্ষের প্রার্থী রাশেদ খানের সমর্থকদের মাঝে হাতাহাতির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (বিএনপির বিদ্রোহী) সমর্থকদের মধ্যে পুকুরিয়া গ্রামে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ধানের শীষের সমর্থকরা কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে ওই এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার তিল্লা বাজারে পাশাপাশি ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী দুটি নির্বাচনী অফিস রয়েছে। সন্ধ্যায় ওই বাজারে উভয়পক্ষের সমর্থকদের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর পার্শ্ববর্তী পুকুরিয়া বাজারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের একটি মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানটিতে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। এরই মধ্যে ভাঙচুরের একটি সিসি টিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ ব্যাপারে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর জানি না। খোঁজ নিয়ে জেনে তারপর এ বিষয়ে কথা বলব।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিনা উস্কানিতে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি আগেও প্রশাসনকে এসব বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আজ আমার কর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিবেশ চলতে থাকলে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, দুইপক্ষের সমর্থকদের কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন সাভাবিক।
ইউটি/টিএ