পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম যথাক্রমে ২ ও ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৭৯.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের হিসাবে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ০.৩ শতাংশ। একই দিন এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৯৭.২০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
অন্যদিকে রুপার বাজার আরও বেশি দোদুল্যমান। দিনের প্রথম দিকের লেনদেনে প্রায় ১০ শতাংশ পতনে ৬৫ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পর স্পট সিলভারের দাম আবার ৩.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩.৯১ ডলারে ওঠে। এর আগের সেশনেই রুপার দাম ১৯.১ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রোর প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, সব ধরনের সংকেত বলছে যে বাজারে ঝুঁকির অনুভূতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন পরিবেশে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও রুপা বেশি চাপে পড়ে যাচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিটে বিক্রি আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার টানা তৃতীয় দিনের মতো বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতু ও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও, যেখানে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারী বলেন, স্বর্ণ ও রুপার দামের এই সংশোধন চীনা নববর্ষের ঠিক আগ মুহূর্তে এসেছে। ফলে আমরা চীনা ক্রেতাদের বেশি কেনাকাটা করতে দেখছি। তবে দুর্বল পজিশন পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা চলতেই পারে।
এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন বাড়িয়েছে মার্কিন এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে বিশ্ববাজারে পতন হওয়ায় সবশেষ শুক্রবার সকালেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছে আজ সকাল ১০টা থেকেই।
স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে সঙ্গে সকালে দেশের বাজারে কমানো হয়েছিল রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।
এমআর/টিকে