বলিউডের আড্ডায় বহু দিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল দিশা পাটানির সঙ্গে পঞ্জাবি গায়ক তলবিন্দর সিংহ সিধুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে। তবে সেই গুঞ্জনের চেয়েও বড় বিতর্কে এবার জড়ালেন এই মুখোশপ্রিয় শিল্পী। সাধারণত জনসমক্ষে মুখ ঢেকেই চলাফেরা করেন তলবিন্দর, নিজের পরিচয়কে আড়ালেই রাখতে চান বরাবর। কিন্তু সম্প্রতি এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আচমকাই মুখোশ ছাড়া তাঁর মুখ ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে, আর সেখান থেকেই শুরু নতুন ঝড়।
ঘটনার সূত্রপাত এক তারকাখচিত বিয়েবাড়িতে। সেখানে দিশা ও তলবিন্দরকে একাধিক বার একসঙ্গে দেখা যায়। ছবিশিকারিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁদের মুহূর্ত, এমনকি এক সময় মুখোশহীন অবস্থাতেও ধরা পড়েন গায়ক। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে নানা মাধ্যমে। তলবিন্দরের দাবি, ঘুম থেকে উঠে নিজের মুখ ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো দেখে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, যেন নিজের পরিচয়ের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
এর পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তলবিন্দর। তাঁর কথায়, অসংখ্য মানুষ তাঁর মুখ দেখানো ভিডিয়ো বানিয়ে ছড়াচ্ছে, এমনকি সেই ভিডিও নাকি মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রিও হচ্ছে। কেউ কেউ বিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় সেই দৃশ্য বিক্রি করছে বলেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। গায়কের আক্ষেপ, তিনি কখনওই চাননি তাঁর মুখ হোক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু, বরং তাঁর কণ্ঠই হোক একমাত্র পরিচয়। তাঁর ভাষায়, গান সবার জন্য হলেও মানুষটি সবার নয়।
এই ঘটনার পর থেকেই দিশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন যেমন নতুন করে চর্চায়, তেমনই শিল্পীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। জনপ্রিয়তার আলো যত তীব্র হচ্ছে, ততই যেন আড়াল ভেঙে সামনে চলে আসছে শিল্পীর অচেনা দিক। মুখোশের আড়ালে থাকা সেই মানুষটির কাছে এই ঘটনা যেন স্বপ্ন ভাঙার সমান, যেখানে খ্যাতির চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়ের মূল্যই বড় হয়ে উঠেছে।
পিআর/টিকে