আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার থেকে শুরু করে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। দলটির ঘোষিত এই রূপরেখায় প্রাধান্য পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এই অংশে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে বিস্তারিত পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন এবং শ্রমিক ও প্রবাসীদের কল্যাণের বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ব্যাপক সংস্কার, শিল্প ও সেবা খাতের উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের কথা উল্লেখ রয়েছে। একইসাথে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চতুর্থ অধ্যায়ে বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপদান, হাওর-বাঁওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন এবং একটি নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে এই অংশে।
ইশতেহারের পঞ্চম ও শেষ অধ্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক জাগরণ ও নৈতিকতার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, পাহাড় ও সমতলের সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা প্রসারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের শক্ত পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি।
টিকে/