কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নথিতে নাম আসার পর দুর্নীতির সন্দেহে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নোবেল কমিটির সাবেক সদস্য থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৩০ লাখেরও বেশি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। নতুন নথিপত্র প্রকাশের পর তা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির নাম যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ অনেক প্রভাবশালীর নাম রয়েছে।
এপস্টেইন সম্পর্কিত ফাইলে নরওয়ের একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে। যেমন নরওয়ের রাজকুমারী তথা পরবর্তী রানি মেটে-মারিট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থর্বজর্ন জাগল্যান্ড। জানা যাচ্ছে, যৌন অপরাধী এপস্টেইনকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন রাজকুমারী মেটে-মারিট। শুধু তাই নয়, এপস্টেইনের বাড়িতে সময়ও কাটিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জ্যাগল্যান্ড ও এপস্টাইনের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে নিয়মিত ইমেইলে যোগাযোগ হতো। এমনকি তিনি রাজকুমারীর মতোই এপস্টেইনের বাড়িতেও যেতেন, থাকতেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও। কারণ নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ের এই কমিটির দ্বারাই প্রদান করা হয়। এইসব তথ্য সামনে আসার পর মুখ খোলেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। রানি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা চান।
এপস্টেইনের সঙ্গে জাগল্যান্ডের সম্পর্ক নিয়ে এবার তদন্তে নেমেছে নরওয়ের পুলিশ। নরওয়ের হোয়াইট-কলার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ ইউনিট ওকোক্রিম গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা জ্যাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের ‘যুক্তিসঙ্গত কারণ’ নির্ধারণ করেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জ্যাগল্যান্ডকে প্রদত্ত দায়মুক্তি প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ওকোক্রিম তার পদের সাথে সম্পর্কিত উপহার, ভ্রমণ এবং ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করবে ‘
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইড এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, মামলার তথ্য ‘আলোচনা’ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো জ্যাগল্যান্ডের দায়মুক্তি তদন্তের পথে বাধা হতে পারে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে নরওয়ে ইউরোপ কাউন্সিলের মন্ত্রীদের কমিটির কাছে জ্যাগল্যান্ডের দায়মুক্তি প্রত্যাহারের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করবে।’
কেএন/টিকে